Elementor #1032

  1. প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার বিকাশ কয়টি পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে ?
    উঃ V.P. BokiJ প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার বিকাশ পর্যায়কে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন, তাঁর মতে i. অজ্ঞাত সময় থেকে 3000 BC পর্যন্ত Vedic Age; ii. 3000 BC থেকে 1000 BC পর্যন্ত Epic Age, iii. 1000 BC থেকে 100 AD পর্যন্ত the age of Rationalism এবং iv. 100 AD থেকে 1000 AD Pauranic Age.
    Romesh Chunder Dutt (রমেশচন্দ্র দত্ত) প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার বিকাশ পর্যায়কে i. Vedic Age (2000 BC to 1400 BC), ii. Epic Age (1400 BC to 1000 BC), iii. Rationalistic Period (1 000 BC to 320 BC), iv. Buddhist Period (320 BC to 500 AD) এবং v. Pauranic Age (500 AD to 1000 AD) এই পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন ।
    অর্থাৎ প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার বিকাশকালকে চারটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে, যথাঃ A. আদি বৈদিক শিক্ষা (Education of Earlier Vedic Period), B. প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষা বা ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা (Education of Late Vedic Period or Brahmanic System of Education), C. বৌদ্ধিক শিক্ষা (Buddhistic System of Education) এবং D. মহাকাব্য যুগের শিক্ষা (Educational System in Epic Age) ।

  2. কোন সময়ে আদি বৈদিক শিক্ষার প্রসার ঘটে ?
    উঃ প্রাচীন ভারতে আর্য সভ্যতার যুগে আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব দুই হাজার বছর থেকে খৃষ্টপূর্ব তিনশ বছর পর্যন্ত সময়কালে বেদ নির্ভর এই শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে ।

  3. আদি বৈদিক শিক্ষার প্রধান ভিত্তি কি ছিল ?
    উঃ আদি বৈদিক শিক্ষার প্রধান ভিত্তি ছিল মানুষের সামাজিক জীবন এবং যজ্ঞানুষ্ঠান ।

  4. শ্রুতি কি ?
    উঃ আদি বৈদিক শিক্ষার শিক্ষার তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় বেদের লিখিত কোন বই ছিল না তাই বেদের বিষয়বস্তু গুরু থেকে শিষ্যের দিকে সঞ্চালনের একমাত্র উপায় ছিল শোনা । বেদের বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীদের শুনে শুনে মনে রাখতে হত বলে বেদ কে শ্রুতি নামে অভিহিত করা হয় ।

  5. বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় কোন কোন বিষয় শিক্ষার পাঠক্রমের অন্তর্গত ছিল ?
    উঃ বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার পাঠক্রমের অন্তর্গত ছিল পরাবিদ্যা এবং অপরাবিদ্যা । গুরুদেবগণ শিষ্যদের বেদ পাঠের পাশপাশি শিক্ষা, কলা, ব্যকরণ, জ্যোতিষ, ছন্দ, তর্ক শাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়েও শিক্ষা দান করতেন ।

  6. বৈদিক শিক্ষার মুল লক্ষ্য কি ছিল ?
    উঃ বৈদিক শিক্ষার মুল লক্ষ্য ছিল আধ্যাত্মিক চিন্তা ও আদর্শের বিকাশ ঘটানো । শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয় এই বোধ জাগ্রত করাই ছিল এই শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য ।

  7. বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা পদ্ধতি কিরূপ ছিল ?
    উঃ বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবে আবৃত্তিই ছিল প্রধান । গুরু বেদমন্ত্র শুর করে শোনাতেন এবং শিষ্যরা তা শুনে আয়ত্ব করতো ।

  8. আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি নামে অভিহিত হত ?
    উঃ আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুল বা গুরু আশ্রম নামে অভিহিত হত । এছাড়া আরেক ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও লক্ষ্য করা যেতো যাকে পরিষদ বলা হতো । বিভিন্ন স্থান থেকে জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি সমবেত হয়ে এরুপ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেন ।

  9. আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার সময়কাল কতদিন ছিল ?
    উঃ আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার সময়কাল নির্ধারিত ছিল 12 বছর । শিক্ষার প্রারম্ভ হতো ‘উপনয়ন’ এর মাধ্যমে এবং সমাপন হতো ‘সমাবর্তন’ এর মাধ্যমে ।

  10. আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় জাতি/শ্রেণি ভিত্তিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমের রূপরেখা টি কেমন ছিল ?
    উঃ আদি বৈদিকযুগে শিক্ষায় কোন জাতিভেদ ছিল না । তবে কর্মভিত্তিক জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত ছিল । এই সময় সমাজের চারটি শ্রেণি যথাঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্র সকলেরই শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত থাকলেও শেষের দিকে শুদ্র শ্রেণির মানুষ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় । এই সময় শিক্ষার পাঠ্যক্রম হিসাবে ব্রাহ্মণদের জন্য বেদ-বেদাঙ্গ, উপনিষদ, নক্ষত্রবিদ্যা, পুরান, ব্রহ্মবিদ্যা ইত্যাদি; ক্ষত্রিয়দের বৃত্তি উপযোগী যুদ্ধ বিদ্যাঅস্ত্র বিদ্যা, নীতিশাস্ত্র, রাজনীতি, আয়ুর্বেদ এবং বৈশ্যদের বৃত্তি উপযোগী পশুপালন, কৃষিবিদ্যা, বাণিজ্যিক বিষয়, চিকিৎসাবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল ।

  11. আদি বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় কোন আদর্শ প্রতিফলিত হতো ?
    উঃ গণতান্ত্রিক আদর্শ ।

  12. প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষা বা ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার প্রধান ভিত্তি কি ছিল ।
    উঃ বৈদিক যুগের শেষ পর্বে বেদ কে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার বিকাশ ঘটে ।

  13. প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থার মুল লক্ষ্যগুলি কিকি ছিল ?
    উঃ প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থার মুল লক্ষ্যগুলি হলঃ i. আত্মজ্ঞান এবং আত্মউপলব্ধির মধ্য দিয়ে চারিত্রিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন, ii. ব্যক্তি সত্বার বিকাশ ঘটানো, iii. শৃঙ্খলাবোধের বিকাশ ঘটানো, iv. সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ সাধন, v. ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান ও বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতার বিকাশ সাধন এবং vi. মানবিক সম্পর্কের উন্নতি সাধন ইত্যাদি ।

  14. প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষালাভের কয়টি প্রক্রিয়া প্রচলিত ছিল ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষালাভের তিনটি প্রক্রিয়া প্রচলিত ছিল যথাঃ শ্রবণ, মনন এবং নিদিধ্যাসন ।

  15. প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষালাভের কয়টি ধাপ ছিল ?
    উঃ প্রাচীন গ্রন্থাদি অনুযায়ী প্রান্তীয় বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষালাভের 7 টি ধাপ ছিল যথাঃ i. শুশ্রুষা (শোনার আগ্রহ), ii. শ্রবণ (গুরুর বাক্য মনোযোগ সহকারে শোনা), iii. গ্রহণ (গুরুর বাক্য অনুধাবন), iv. ধারণা (বিষয়বস্তু সম্পর্কে বোধ গঠন), v. বিষয়বস্তুর মর্মার্থ অনুধাবন, vi. আলোচনা এবং vii. বিজ্ঞান (পরিপূর্ন জ্ঞানলাভের চেষ্টা) ।

  16. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো কিকি ছিল ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয় ছিল পরাবিদ্যা ও অপরাবিদ্যার সমন্বয় । শিক্ষাব্যবস্থাটি ছিল বর্ণভিত্তিক এবং বৈচিত্রপূর্ণ ।

  17. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় ‘সর্দার পড়ো’ বা ‘Monitorial System’ বলতে কি বোঝায় ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুর অবর্তমানে গুরুপুত্র শিষ্যদের শিক্ষকতার কাজে সাহায্য করতেন । শিক্ষকতার এরুপ ব্যবস্থাটি ‘সর্দার পড়ো’ বা ‘Monitorial System’ নামে অভিহিত ।

  18. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় কত বছর বয়সে শিশুর প্রারম্ভিক শিক্ষা আরম্ভ হতো ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় পাঁচ বছর বয়সে ‘চূড়াকর্ম’ বা ‘চৌল’ কর্মের মধ্য দিয়ে শিশুর প্রারম্ভিক শিক্ষা আরম্ভ হতো ।

  19. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় জাতি বিশেষে কত বছর পর্যন্ত গৃহে পিতার তত্বাবধানে শিক্ষাগ্রহণ করতে হতো ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় ব্রাহ্মণদের 8 বছর, ক্ষত্রিয়দের 11 বছর এবং বৈশ্যদের 12 বছর গৃহে পিতার তত্বাবধানে শিক্ষাগ্রহণ করতে হতো এবং এর পর উপনয়নের মাধ্যমে গুরুগৃহে শিক্ষা আরম্ভ হতো । এই শিক্ষা ব্যবস্থায় শুদ্রদের উপনয়ন ও বেদ পাঠের কোন অধিকার ছিল না ।

  20. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে রবীন্দ্রনাথঠাকুর প্রভাবিত হয়েছিলেন ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট হল তপোবন শিক্ষা ব্যবস্থা যার ধারণায় প্রভাবিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (23 December 1921) প্রতিষ্ঠা করেন ।

  21. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় অনুসৃত তপোবন শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিতে ভারতে আর কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় অনুসৃত তপোবন শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিতে ভারতে হরিদ্বারে গুরুকুল বিশ্ববিদ্যালয় (Gurukul Kangri Vishwavidyalaya – 1902) এবং রাধাকৃষ্ণণ কমিশন (1948-49) কর্তৃক গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rural Universities) পরিকল্পনা করা হয় ।

  22. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্গত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি নামে পরিচিত ?
    উঃ গুরুকুল বা গুরুআশ্রম ।

  23. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় কয় প্রকার স্নাতক এর স্বীকৃতি ছিল ?
    উঃ তিন প্রকার, যথাঃ বিদ্যাস্নাতক, ব্রতস্নাতক এবং বিদ্যাব্রতস্নাতক ।

  24. বিদ্যাস্নাতক বলতে কি বোঝায় ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ব্রতপালন না করে বেদ অধ্যয়ন শেষ করে যে শিক্ষা মর্যাদা লাভ করতেন তাকে বিদ্যাস্নাতক বলা হত ।

  25. ব্রতস্নাতক বলতে কি বোঝায় ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থী সমস্ত বেদ অধ্যয়ন না করে সমস্ত ব্রতপালন সমাপন করে যে শিক্ষা মর্যাদা লাভ করতেন তাকে ব্রতস্নাতক বলা হত ।

  26. বিদ্যাব্রতস্নাতক বলতে কি বোঝায় ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থী সমস্ত বেদ ও সমস্ত ব্রতপালন সমাপন করে যে শিক্ষা মর্যাদা লাভ করতেন তাকে বিদ্যাব্রতস্নাতক বলা হত ।

  27. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠা কয়েকটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রের নাম লিখুন ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠা কয়েকটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হলঃ তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়, বারাণসী, কাঞ্চি, মিথিলা, নবদ্বীপ ইত্যাদি ।

  28. তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় কখন স্থাপিত হয় ?
    উঃ খৃষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন রাজা ভরত । পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁর পুত্র তক্ষশীল (Taxila) এর নামানুসারে এই নামকরণ হয় ।

  29. ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় বাৎসরিক অধ্যয়নকালের সময়সীমা কতদিন ছিল ?
    উঃ ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় বাৎসরিক সাড়ে চার মাস থেকে ছ’মাস সময় কালে পঠন-পাঠনের কাজ চলত । শ্রাবণী পূর্ণিমার দিন ‘উপকর্মণ’ নামক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষারম্ভ হতো এবং পৌষ-মাঘ মাসে ‘উৎসর্জন’ নামক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পঠন-পাঠনের কাজ সমাপ্ত হতো ।

  30. বিশ্বের প্রথম সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ কে ঘটান ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা গৌতম বুদ্ধের অনুগামীগণ ।

  31. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার মুল লক্ষ্য কি ছিল ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার মুল লক্ষ্য ‘নিখুঁত চূড়ান্ত জ্ঞান’ (perfect ultimate wisdom) অর্জন যা সংস্কৃত ভাষায় অনুত্তরা-সাম্যক-সম্ভোদী (Anuttara-Samyak-Sambhodi) নামে পরিচিত । অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের প্রাকৃতিক, মানসিক, নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের মধ্য দিয়ে সামগ্রিক বিকাশের উন্মোচন করা ।

  32. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার মুল গ্রন্থ কি ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার মুল গ্রন্থ হলঃ “ত্রিপিটক” যেখানে গৌতম বুদ্ধের আদর্শ, দর্শন, নীতিকথা তথা সামগ্রিক চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছে । ইহা তিনটি অংশে বিভক্ত যথাঃ সূত্তপিটক, বিনয় পিটক এবং অভিধম্ম পিটক ।

  33. ভারতে কোন সময়কালে বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটে ?
    উঃ ভারতে 600 খ্রিস্টপূর্বাব্দে বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যপক প্রসার ঘটে ।

  34. কয়টি ধাপে বৌদ্ধিক শিক্ষা সম্পন্ন হতো ?
    উঃ দুইটি ধাপে বৌদ্ধিক শিক্ষা সম্পন্ন হতো, এগুলি হল :- i. প্রবজ্জ্যা (Prabbajja) এবং ii. উপসম্পদা (Upasampada) । এই দুটি পর্বে মোট 22 বছরে শিক্ষা সম্পূর্ণ হতো ।

  35. বৌদ্ধিক শিক্ষার প্রবজ্জ্যা (Prabbajja) শিক্ষাকালের সময়সীমা কত ছিল ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষার প্রবজ্জ্যা (Prabbajja) শিক্ষাকালের সময়সীমা ছিল 12 বছর ।

  36. বৌদ্ধিক শিক্ষার উপসম্পদা (Upasampada) শিক্ষাকালের সময়সীমা কত ছিল ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষার উপসম্পদা (Upasampada) শিক্ষাকালের সময়সীমা ছিল 10 বছর ।

  37. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম কয় ভাগে বিভক্ত ছিল ?
    উঃ দুই ভাগে, যথাঃ প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ্যক্রম ও উচ্চ শিক্ষা পাঠ্যক্রম ।

  38. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো কিকি ছিল ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো ছিল পঠন (Reading), লিখন (Writing) এবং অঙ্কশাস্ত্র (Arithmetic) ।

  39. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্চ শিক্ষার পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো কিকি ছিল ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্চ শিক্ষার পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো ছিল ধর্মীয় দর্শন (Religion Philosophy), আয়ুর্বেদ (Ayurveda) এবং যুদ্ধাভ্যাস (Military Training) ইত্যাদি ।

  40. ভারতে বৌদ্ধিক শিক্ষা বিস্তারের জন্য গড়ে ওঠা বিশ্ববন্দিত প্রতিষ্ঠানটির নাম কি ?
    উঃ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিহারের রাজগীরে 400 খৃষ্টাব্দে গড়ে উঠেছিল ।

  41. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থার অষ্টাঙ্গ মার্গ (Astang Marg) বা (Noble Eightfold Path) গুলি কিকি ?
    উঃ i. Samma-Ditthi — Complete or Perfect Vision. ii. Samma-Sankappa — Perfected Emotion or Aspiration. iii. Samma-Vaca — Perfected or whole Speech. iv. Samma-Kammanta — Integral Action. v. Samma-Ajiva — Proper Livelihood. vi. Samma-Vayama — Complete or Full Effort, Energy or Vitality. vii. Samma-Sati — Complete or Thorough Awareness. এবং viii. Samma-Samadhi — Full, Integral or Holistic Samadhi
    (Right view, Right resolve, Right speech, Right conduct, Right livelihood, Right effort, Right mindfulness, and Right samadhi)

  42. বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থা “চার চির সত্য” (Four Nobel Truths) কিকি ?
    উঃ বৌদ্ধিক শিক্ষা ব্যবস্থা “চার চির সত্য” হলঃ i. সমস্ত জীবন ক্লেশের বা দুর্ভোগের (All life knows suffering), ii. দুর্ভোগের কারণ অজ্ঞতা এবং বন্ধন (The cause of suffering is ignorance and clinging), iii. দুর্ভোগের অবসানের একটি উপায় আছে (There is a way to end suffering) এবং iv. দুর্ভোগের অবসানের এটিই (শিক্ষা/জ্ঞান) উপায় (This (Education) is the way to end suffering) ।

  43. মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি কি ছিল ?
    উঃ মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি ছিল আধ্যাত্মিক (Spiritual) ধ্যানধারণা ।

  44. বিশ্বের প্রাচীনতম দর্শনটির নাম কি ?
    উঃ বিশ্বের প্রাচীনতম দর্শনটির নাম হলঃ সংখ্যা দর্শন (Samkhya Philosophy)

  45. সংখ্যা দর্শন উৎপত্তির কারণ কি ?
    উঃ ভারতীয় ভারততত্ত্ববিদ ও বৈদিক পণ্ডিত (Indologist and Vedic scholar) Ramchandra Narayan Dandekar 1968 সালে প্রকাশিত তার ‘God in Indian Philosophy’ তে সংখ্যা দর্শন এর উৎপত্তি তে প্রাক-বৈদিক ও অনার্যান চিন্তার জটিলতা কে দায়ী করেছেন । তাঁর মতে “The origin of the Sankhya is to be traced to the pre-Vedic non-Aryan thought complex”)

  46. সংখ্যা দর্শন (Samkhya Philosophy) এর প্রবক্তা কে ?
    উঃ ভারতীয় ঋষি কপিলা (Rishi Kapila) সংখ্যা দর্শন এর প্রবক্তা । তিনি খৃষ্টপূর্ব ষষ্ঠ-সপ্তম শতকে ইহা প্রবর্তন করেন ।

  47. মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার মুল গ্রন্থ দুটি কিকি ?
    উঃ মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার মুল গ্রন্থ দুটি হলঃ রামায়ণ এবং মহাভারত ।

  48. মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্গত ভাষাগুলি কিকি ?
    উঃ মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থার প্রারম্ভে সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা বিকশিত হয় এবং পরবর্তীকালে প্রাকৃত ভাষা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ।

  49. মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা কি ?
    উঃ মহাকাব্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ব্যাকরণ (Grammar) এর ব্যবহারের সূচনা ।

  50. বর্তমানে বহুল প্রচলিত “ছাত্র” শব্দটির ব্যবহার কোন সময় আরম্ভ হয় ?
    উঃ মহাভারত যুগে । ঐ সময়ে গুরুর নিকট শিক্ষার্থী শিশু একটি চাঁন্দোয়া/(সংস্কৃত :- ছত্র, ইংরাজি :-Canopy) তে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতো যা থেকে “ছাত্র” শব্দটির উৎপত্তি হয় ।
    Amongst the Universities founded in the period are the: University of Bombay 1857, University of Calcutta 1857, University of Madras 1857, University of the Punjab 1882, Allahabad University 1887 , University of Mysore 1916, Patna University 1917, Osmania University 1918, Rangoon University 1920, University of Lucknow 1921, University of Dhaka 1921, University of Delhi 1922, Nagpur University 1923, Andhra University 1926, Agra University 1927, Annamalai University 1929, University of Kerala 1937, Utkal University 1943, Panjab University 1947, University of Rajputana 1947

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!