Geomorphic Landforms Process ॥ ভূগাঠনিক ভূমিরূপ প্রক্রিয়া

Geomorphic Landforms Process 

ভূগাঠনিক ভূমিরূপ প্রক্রিয়া 

ভূমিরুপ :- পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাকৃতিক রুপ বৈচিত্রের মধ্যে ভূমিরুপ অন্যতম । ভূমিরুপ বলতে বোঝায় সল্প বা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে প্রাকৃতিক বা মানবীয় প্রক্রিয়া গুলোর ক্রিয়াশীলতার প্রভাবে গড়ে ওঠা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা সমগ্র তলের বৈচিত্র পূর্ণ গঠণ কে, অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠের বন্ধুরতা,সমতলতা,পার্বত্য ময়তা বা মালভূমি, খাত প্রভৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বৈচিত্রময় রূপই হল ভূমিরুপ ।

ভূমিরুপ প্রক্রিয়া :- সতত পরিবর্তনশীল পৃথিবী পৃষ্ঠের ভূমিরুপের গঠনে যেসমস্ত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের ভূমিরুপ প্রক্রিয়া বলে । এই প্রক্রিয়া কখনো ঋণাত্মক আবার কখনো বা ধনাত্মক ভূমিরুপের গঠনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কাজ করে । প্রক্রিয়া গুলোর চরিত্র অনুযায়ী এদেরকে দুভাগে ভাগ করা যায়, যথা :-

অন্তঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়া(Endogenous Geomorphic Process) :- পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগে গুরু মন্ডলে পরিচলন স্রোত, পাতের সঞ্চালন, ম্যাগমা চেম্বার থেকে ম্যাগমাউদ্গীরণ, সমস্থিতিক ভারসাম্যতা প্রভৃতি কারণে যখন ভূআভ্যন্তরীণ শক্তি অভ্যন্তর ভাগ থেকে নির্গত হয়ে ভূপৃষ্ঠে তাত্ক্ষণিক বা ধীর ভাবে ভূমিরুপের পরিবর্তন ঘটায় তখন সেই সমগ্র প্রক্রিয়াকে অন্তঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়া বলে ।

বৈশিষ্ট :- (1) অন্তঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়ার প্রধান ভিত্তি হল পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ চাপ ।
(2) এই প্রক্রিয়ার প্রভাবে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক ভূমিরুপ সৃষ্টি হয় ।
(3) প্রক্রিয়াটি তাত্ক্ষণিক বা দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে ।
(4) অন্তঃস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূবৈচিত্র প্রাথমিক ভূবৈচিত্র হিসাবে আদৃত হয় এবং বৈচিত্রতাও সর্বাধিক ।
(5) অন্তঃস্থ প্রক্রিয়া গুলি পৃথিবী পৃষ্ঠে আকস্মিক বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম ।
(6) এই প্রক্রিয়া নিরবিচ্ছিন্ন কোন অবস্থাতেই এর স্বাভাবিক কার্য প্রভাবিত হয়না ।

মাধ্যম :- অন্তঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়ার উল্লেখ যোগ্য মাধ্যম গুলি হল –(A) ভূমিকম্প :-
(B) ভূ-আলোড়ন :- গিরিজনি ও মহীভাবক আলোড়ন
(C) গুরুমণ্ডলীয় পরিচলন স্রোত :-
(D) বিভিণ্ন পাতের সঞ্চালন :- অভিসারী পাত সঞ্চালন, প্রতিসারী পাত সঞ্চালন, নিরপেক্ষ পাত সঞ্চালন ও ত্রিমুখী পাত সঞ্চালন ।
(E) অগ্ন্যুত্পাত :- কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুত্পাত ও বিদার অগ্ন্যুত্পাত ।
(F) সমুদ্র বক্ষের বিস্তার :-
(G) মহাদেশীয় সঞ্চরণ :- ইত্যাদি ।

বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়া(Exogenous Geomorphic Process) :- পৃথিবী পৃষ্ঠে ক্রিয়াশীল বিভিণ্ন মাধ্যম (যথা :-নদী প্রবাহ, বায়ু প্রবাহ, হিমবাহ, সমুদ্র তরঙ্গ ; আবহবিকার, পুঞ্জ ক্ষয়, ভৌমজল প্রভৃতি ) যখন তাদের শক্তি দ্বারা ভূপৃষ্ঠে বিভিণ্ন বৈচিত্রময় ভূমিরুপের উত্পত্তি ঘটায় তখন তাদের সন্মিলিত প্রক্রিয়াকে বলা হয় বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রকৃয়া ।

বৈশিষ্ট :- (1) বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রকৃয়ার প্রধান ভিত্তি হল অন্তঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়ার ফলে উত্পন্ন ভূমিরুপ ।
(2) এই প্রক্রিয়ায় ক্রিয়াশীল কিছু মাধ্যম একই সাথে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক ভূমিরুপ সৃষ্টি করে ।
(3) প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে থাকে ।
(4) বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রকৃয়ার প্রভাবে উদ্ভূত ভূমিরুপের বৈচিত্র গৌণ প্রকৃতির হয়ে থাকে ।
(5) বহিঃস্থ প্রকৃয়া ধীর গতি সম্পন্ন হওয়ায় এর কোন বিপর্যয় গত প্রভাব জনজীবনে পড়ে না ।
(6) এই প্রক্রিয়া রুদ্ধ, বিভিণ্ন উপাদান গুলির সক্রিয়তার দ্রুততার উপর ইহা নির্ভরশীল ।

মাধ্যম :- বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রকৃয়ার মাধ্যম গুলিকে ক্রিয়াশীলতার ভিত্তিতে মূলতঃ দুটি গোত্রে ভাগ করা যেতে পারে,যথা :- (A) স্থিতিশীল প্রাকৃতিক মাধ্যম :- (1) আবহবিকার :- (i) যান্ত্রিক আবহবিকার, (ii) রাসায়নিক আবহবিকার, (iii) জৈব- রাসায়নিক আবহবিকার ;
(2) আবহাওয়ার বিভিণ্ন উপাদান :- বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি ;
(3) শিলার প্রকৃতি ;
(B) গতিশীল মাধ্যম :- (1) নদীর কার্য :- (i) নদীর ক্ষয় কার্য (ii) নদীর বহন কার্য (iii) নদীর সঞ্চয় কার্য ;
(2) বায়ুর কার্য :- (i) বায়ুর ক্ষয় কার্য (ii) বায়ুর সঞ্চয় কার্য ;
(3) হিমবাহের কার্য :- (i) হিমবাহের ক্ষয় কার্য (ii) হিমবাহের সঞ্চয় কার্য ;
(4) পুঞ্জ ক্ষয় ;
(5) নগ্নীভবন ইত্যাদি ।



ভূগোল চিন্তন 

একটি প্রয়োজনীয় ইবুক

বইটি সংগ্রহের জন্য নিম্নের ছবিটি স্পর্শ করুনঃ 



পর্যায়ণ (Gradetino):-

‘পর্যায়ণ’ শব্দের অর্থ হল ‘ধাপে ধাপে ঘটা’ । যে প্রকৃয়ায় বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রকৃয়ার ক্রিয়াশীল মাধ্যম গুলি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে এক ভূমিরুপ থেকে অন্য ভূমিরুপের উত্পত্তি ঘটায় তাকে পর্যায়ণ বলে । ভূতত্ববিদ চেম্বারলিন ও স্যলিস বারির মতে ‘যেসব প্রক্রিয়া তাদের অনবরত ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের মাধ্যমে ভূভাগের স্বভাবিক রুপবৈচিত্রকে পরিবর্তন করে একটি স্বভাবিক তলের উত্পত্তি ঘটায় তাদের সমষ্টিকে পর্যায়ণ বলে ।’ এই সমষ্টি গত প্রক্রিয়া মূলতঃ অবরোহন ও আরোহণ প্রক্রিয়ার সমন্বয় ।
G.K.Gilbert 1876 খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম ‘Grade’ শব্দটি ব্যবহার করেন । তিঁনি নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা ভারসাম্য জনিত ভূমিরুপ গঠনের ক্রম কে ‘Grade’নামে অভিহিত করেন ।

বিভাগ :- পর্যায়ণ দুটি প্রক্রিয়ার মিলিত (Integrated) অবস্থা, এগুলি হল –

অবরোহণ (Degradation) :- দুটি বহিঃর্জাত ভূমিরুপ প্রক্রিয়ার বিভিণ্ন মাধ্যম গুলি যখন ক্ষয়কারী ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে কোন প্রাথমিক ভূভাগকে ক্ষয়ের শেষ সীমায় পৌঁছিয়ে ভূমিভাগের উচ্চতা হ্রাস ঘটায় তখন সেই প্রক্রিয়াকে অবরোহন বলে ।
বৈশিষ্ট :- (1) অবরোহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন প্রাথমিক উচ্চ ভূমিরুপ ক্ষয়িভূত হয় । (2) যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাথমিক বা ক্রিয়াশীল ভূখণ্ড ক্ষয়ের শেষ সীমা (Base Level Of Erosion) তে পৌঁছায় ততক্ষণ অবরোহন প্রক্রিয়া চলতে থাকে । (3) এই প্রক্রিয়ায় বিভিণ্ন প্রকার ক্ষয়জাত ভূমিরুপ সৃষ্টি হয় । (4) অবরোহন প্রক্রিয়া তার বিভিণ্ন প্রকার ক্রিয়াশীল মাধ্যম গুলির ঋণাত্মক গতির ওপর নির্ভরশীল । (5) ভূমিভাগ অবতল ঢাল সৃষ্টির একটি অন্যতম মাধ্যম হল অবরোহন প্রক্রিয়া ।

মাধ্যম :- অবরোহন প্রক্রিয়া কয়েকটি নির্দিষ্ট মাধ্যম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,এগুলি হল – (1) স্থিতিশীল মাধ্যম :- (a)আবহবিকার (b) পুঞ্জক্ষয় (c) বায়ুমন্ডলীয় অবস্থা ;
(2) গতিশীল মাধ্যম :- (a) নদীর ক্ষয় কার্য(i)উত্পাটন (ii)অব ঘর্ষ ক্ষয় (iii)ঘর্ষণ (iv) দ্রবণ ; (b) বায়ুর ক্ষয় কার্য :- (i) অবঘর্ষ (ii) ঘর্ষণ ক্ষয় ; (c) হিমবাহের ক্ষয় কার্য:- (i)উত্পাটন (ii)ঘর্ষণ ক্ষয় (iii)অবঘর্ষ ; (d) ভৌম জলের ক্ষয় কার্য; (e) সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয় কার্য :- (i) দ্রবণ ক্ষয় (ii) জল প্রবাহ ক্ষয় (iii)ঘর্ষণ ক্ষয় (iv)অবঘর্ষ এবং (f)ক্ষয়িভবন ইত্যাদি ।

আরোহণ (Agradetion) :- বহিঃস্থ ভূমিরুপ প্রক্রিয়ার বিভিণ্ন মাধ্যম গুলি যখন সঞ্চয়কারী ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে কোন অবতল ভূভাগকে উত্তল ভূমি ভাগ হিসাবে উন্নীত করে এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে তখন সেই প্রক্রিয়াকে আরোহণ বলে ।

বৈশিষ্ট :-  (1) আরোহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন নিম্ন ভূমিরুপ অপেক্ষাকৃত উচ্চ ভূমিরুপ বা সমতল ভূমিরুপে উন্নীত হয় । (2) যতক্ষণ পর্যন্ত না আপেক্ষিক অঞ্চলের ভূমির উচ্চতার সঙ্গে আরোহণ প্রভাবক অঞ্চলের ভূমির উচ্চতা স্থিতিশীল হয় ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে । (3) এই প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়জাত ভূমিরুপ সৃষ্টি হয় । (4) অবরোহন প্রক্রিয়ার মতোই আরোহণ প্রক্রিয়া তার মাধ্যম গুলির গতির ওপর নির্ভরশীল তবে এক্ষেত্রে সঞ্চায়ক গতি । (5) ভূমিভাগে উত্তল ঢাল সৃষ্টির একটি অন্যতম বহিঃস্থ মাধ্যম আরোহণ ।

মাধ্যম :- আরোহণ প্রকৃয়ায় ক্রিয়াশীল মাধ্যম গুলি হল – (a) নদী দ্বারা পলল সঞ্চয় (বদ্বীপ); (b) বায়ু প্রবাহ জনিত সঞ্চয়(লোয়েস সমভূমি); (c) হিমবাহ অবস্করের সঞ্চয়-(গ্রাব রেখা, ড্রামলিন, এস্কার, কেম, আউট ওয়াশ সমভূমি ); (d) ভৌম জলের প্রভাবে সঞ্চয়-(স্ট্যালাক টাইট, স্ট্যালাক মাইট, ড্রিপ স্টোন, পিলার )এবং (e) সমুদ্র তরঙ্গ জনিত সঞ্চয় –(চর বাঁধ, সৈকত ভূমি )ইত্যাদি ।

Degradational Process :-

Weathering, Erosion & Mass-Wasting :-

যান্ত্রিক আবহবিকার (Mechanica। Weathering):-

সংজ্ঞা :- শিলাস্তরে উষ্ণতার তারতম্য,উষ্ণতা ও শুষ্কতার পার্থক্য, শিলাস্তরে চাপের প্রভেদ,তুষার ও লবণের কেলাস গঠণ, জৈবিক কার্যকলাপ ইতাদির প্রভাবে শিলা সমূহের শুধুমাত্র ভৌত পরিবর্তনের মাধ্যমে যে আবহ বিকার ঘটে তাকে যান্ত্রিক বা ভৌত আবহ বিকার বলে ।
ভূ -বিজ্ঞানী, পেরি -রাইস (1950) এঁর মতে – যান্ত্রিক আবহ বিকার 5 টি পদ্ধতিতে সংঘটিত হয় ।

Classification of Process of Mechanical Weathering:-

যান্ত্রিক আবহ বিকার তিনটি পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়, যথা –
1.Mechanica। Weathering Due To Heat :- ঋতু বাদিনরাত্রির উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য এই ধরণের আবহ বিকার সংঘটিত হয় । এর প্রভাবে 5 প্রকার আবহ বিকার সংঘটিত হয়, যথাঃ

♦Block Disintegration:- সমান্তরাল এবং সমকোনী ফাটলের সাহয্যে যখন গন্ড শিলা কতগুলি বড়বড় খন্ডে পরিণত হয় তখন তাকে প্রস্তর চাঁই বিচ্ছিন্ন করণ বলে ।
সাধারণত দারন যুক্ত কোয়ার্ট জাইট শিলায় এই আবহ বিকার দেখা যায় ।

♦Exfolistion :- অনেকসময় শিলা উতপ্ত হয়ে নীচে বা পাশে প্রসারিত হতে ন পেরে উপরের দিকে প্রসারিত হয়,ফলে শিলার উপরের স্তরটি অভ্যন্তরের শীতল শিলা স্তর হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পিঁয়াজের ন্যায় খুলে যায়,একে শল্কমোচন বলে । সমকেন্দ্রী স্তরবিশিষ্ট শিলা স্তরে তাপ জনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংকোচন -প্রসারণ প্রক্রিয়ার ফলে এরূপ ক্ষয় সংঘটিত হয় । ইনসেল বার্গ জাতীয় ভূমি রূপে এর প্রধান্য বেশী ।

♦Granular Disintegration :- বিষম প্রকৃতির শিলায় উষ্ণতার হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে শিলা খনিজ গুল সংকোচিত ও প্রসারিত হলে প্রবল টানের উদ্ভব হয় এবং সশব্দে ফেটে যায় ; এইভাবে শিলার বিভিন্ন খনিজের মধ্যস্থিত সংযোগ সাধক পদার্থের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই ক্ষুদ্র কণা বিশরন । বেলে পাথরে ইহা অধিক প্রভাব বিস্তার করে, মরু অঞ্চল এর প্রধান ক্ষেত্র ।

♦Boulder Cleaving :- কোন শিলা খন্ডের কিছু অংশ ভূপৃষ্ঠের বাইরে উন্মুক্ত অবস্থায় এবং কিছু অংশ অভ্যন্তরে প্রোথিত অবস্থায় থাকলে নিম্নাংশ অপেক্ষা উর্ধ্বাংশ অধিক সূর্য তাপ গ্রহণ ও বিকিরণের মাধ্যমে স্ফীত ও সংকুচিত হয় । ফলে শিলার মধ্যে পীড়ন সৃষ্টি হয় এবং প্রোথিত ও উন্মুক্ত অংশের মিলন তল বরাবর গন্ড শিলায় ফাটল ধরে, এই প্রক্রিয়াই গন্ড শিলা বিদারণ ।

♦Dirt Cracking :- গন্ড শিলার ফাটলে বিভিন্ন শিলা খন্ড বা চূর্ণ প্রবেশ করলে শিলা প্রসারণের পর সংকুচিত হবার সময় সমগ্র ফাটল বন্ধ করতে পারেনা ফলে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পায় ; আবহ বিকার এর এই পদ্ধতিকে Cober ও Paddy ‘DirtCreacking’নামে অভিহিত করেন ।
কেলাস জনিত আবহ বিকার :- শিলাস্তরের ফাটলের ভেতর জল অথবা লবণ সমৃদ্ধ দ্রবণ কেলাসিত হলে ফাটলের গায়ে চাপের সৃষ্টি হয় ফলে শিলাস্তর ভেঙ্গেযায় । এরূপ কেলাস জনিত আবহ বিকার তিনপ্রকার, যথা –

A. জলের কেলাসনে সৃষ্ট যান্ত্রিক আবহ বিকার :- জল বরফে পরিণত হলে 9/10 % আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং -22o c উষ্ণতায় প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে 30 হাজার পাউন্ড চাপ প্রয়োগে সক্ষম, ফলে স্বভাবিক ভাবে শিলা স্তর ভেঙ্গে যায় । জলের কেলাস তিন প্রকারের হয়, যথা – (i) বরফ কীলক প্রক্রিয়া , (ii) তুষার চাড় প্রক্রিয়া এবং (iii) সূচী হীম প্রক্রিয়া ।

B. লবণ কেলাসন প্রক্রিয়ার যান্ত্রিক আবহ বিকার :- ফাটল যুক্ত ও সছিদ্র শিলা স্তরে লবণ সমৃদ্ধ দ্রবণ কেলাসিত হয়ে শিলায় এরূপ আবহ বিকার ঘটে । বিশেষত উপকূল অঞ্চলে লবণের প্রভাব খুব বেশী । বাড়ির দেওয়ালে লবণের কেলাস জনিত আবহ বিকার দেখাযায় । মিশরের কারনাকের মন্দিরে এর প্রভাব লক্ষ্যনীয় ।

C. রাসায়নিক পরিবর্তন জনিত কারণে আবহবিকার :- জলযোজন ও জারণের কারণে আয়তন জনিত যান্ত্রিক চাপের প্রভাবে শিলা স্তরে উপস্থিত রসায়নিক পদার্থের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ধরণের আবহ বিকার সংঘটিত হয় ।

3. চাপ হ্রাস জনিত আবহবিকার :- চাপ হ্রাসের ফলে সাধারণত দুটি প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, যথা –

A.Sheeting :- অবরোধী চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মস্তক চাপ হ্রাস পেলে শিলার প্রসারণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূমি ভাগের সমান্তরালে শিলা স্তর কতগুলি পাতলা স্তরে বিভক্ত হলে তাকে Sheeting বলে ।
বেলে পাথর,চুনা পাথর,গ্রানাইট ইতাদি শিলায় এই আবহবিকার দেখা যায় ।

B. Spalling :- অবরোধী চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মস্তক চাপ হ্রাস পেলে শিলার প্রসারণ বৃদ্ধি পায় এবং অনেকসময় বিস্ফোরণের মাধ্যমে শিলা স্তর বিশৃঙ্খল ভাবে ছোট ছোট খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে একে Spalling বলে ।
চাপহ্রাস জনিত আবহবিকার অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার Mount Bafe তে দেখা যায় ।

চাপ হ্রাস হেতু আবহবিকার সমন্ধে Dapples এর সূত্র :-

Dapples 1959 সালে যে সূত্রটির প্রস্তাব করেন সেটি হল
Unloading Earth ∞ as Thickness of Sheet = DT∞ 1.51
(যেখানে T=Thickness of Rock ; D= Depth )
তবে এই সূত্র 380 Km গভীরতা পর্যন্ত প্রজোয্য ।

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!