Knowing Process ॥ জানার প্রক্রিয়া

জানার প্রক্রিয়া (Knowing Process)

1. জানার প্রক্রিয়া (Knowing Process) ধারণার উৎপত্তি কিভাবে ?
উঃ মনোবিদদের মতে প্রতিটি সক্রিয় প্রতিক্রিয়া বা আচরণের তিনটি মাত্রা থাকে, যথাঃ জ্ঞানমূলক মাত্রা (Cognitive Domain), অনুভূতিমূলক মাত্রা (Affective Domain) এবং ক্রিয়াগত মাত্রা (Conative Domain) । আচরণের জ্ঞানমূলক মাত্রার মাধ্যমে ব্যক্তির জিজ্ঞাসা বা কোন কিছু সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষা উদ্ভুত হয় । আর জিঘাংসা পূরণের জন্য ব্যক্তি ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে তার কাম্য আচরণ সম্পাদন করে । অর্থাৎ আচরণের জ্ঞানমূলক মাত্রার মাধ্যমেই জানার প্রক্রিয়া ধারণার উৎপত্তি ।

2. জানার প্রক্রিয়া বলতে কি বোঝায় ?
উঃ যে দৈহিক-মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার কৌতুহল পূর্ণ করে বা জিজ্ঞাস্য অনুভূতি নিরসন করে জ্ঞান অর্জন করে তাকে জানার প্রক্রিয়া বলে । জানার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অনুভূতিমূলক মাত্রায় আনন্দ-বেদনা, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি দ্বারা জারিত হয় এবং ক্রিয়াগত ভাবে তার আচরণ সম্পাদন করে ।

3. জানার প্রক্রিয়া সম্পাদনের কয়টি স্তর রয়েছে ?
উঃ জানার প্রক্রিয়া সম্পাদনের তিনটি স্তর রয়েছে, যথাঃ i) সংবেদন (Sensation), ii) প্রত্যক্ষণ (Perception) এবং iii) ধারণা (Concept) ।

4. সংবেদন (Sensation) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ সংবেদন হ’ল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় তথ্য সংগ্রহ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারা সৃষ্ট প্রাথমিক স্নায়বিক অনুভূতিকে বলা হয় সংবেদন । জন্মগতসূত্রে প্রাপ্ত পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই বহির্জগতের উত্তেজনাগুলি আলাদা আলাদা ভাবে মস্তিষ্কে প্রেরিত হয় এবং সংবেদন অনুভূত হয় । ইংরেজ মনোবিদ টিচেনার (Edward Bradford Titchener) গুণ, তীব্রতা ও স্পষ্টতা এই তিনটি ধর্মের প্রভাবে গঠিত মৌলিক মৌলিক মানসিক ক্রিয়াকে সংবেদন বলে উল্লেখ করেছেন ।

5. সংবেদন কত প্রকারের হয়ে থাকে ?
উঃ প্রাথমিকভাবে সংবেদন তিন প্রকারের হয়ে থাকে, যথাঃ A) বিশেষ সংবেদন (Special Sensation), B) যান্ত্রিক সংবেদন (Organic Sensation) এবং C) পেশির সংবেদন (Muscular Sensation) ইত্যাদি ।

6. বিশেষ সংবেদন কত প্রকারের হয়ে থাকে ?
উঃ জন্মসূত্রে প্রাপ্ত আমাদের পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বহির্জগতের উত্তেজনাগুলি আলাদা আলাদা ভাবে মস্তিষ্কে প্রেরিত হয় বলে বিশেষ সংবেদন পাঁচ ভাবে অনুভূত হয়, যথাঃ i) দৃশ্য সংবেদন (Visual Sensation), ii) শ্রবণ সংবেদন (Auditory/Hearing Sensation), iii ঘ্রাণগত সংবেদন (Oflactory/Smelling Sensation), iv) স্বাদন সংবেদন (Test Sensation) এবং v) স্পর্শ সংবেদন (Touch Sensation) ইত্যাদি ।

7. দৃশ্য সংবেদন (Visual Sensation) কি ?
উঃ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের যে সমস্ত সংবেদন মূলতঃ চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে সঞ্চারিত হয় তাকে দৃশ্য সংবেদন বলে । এরুপ সংবেদনের উদ্দীপক হল আলোক রশ্মি, যা কোন পার্থিব উপাদানের উপর পতিত হয়ে আমাদের চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরিত হয়ে প্রতিচ্ছবি গঠন করে ।

8. দৃশ্য সংবেদন কয়টি মাত্রায় (Dimension) সংগঠিত হয় ?
উঃ দৃশ্য সংবেদন তিনটি মাত্রায় সংগঠিত হয়, এই মাত্রাগুলি হলঃ i) Hue Dimension :- হিউ মাত্রার মাধ্যমে নিউরাল ধূসর সংবেদন থেকে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে সাদা এবং কালো সংবেদন তৈরি করে । ii) দ্বিতীয় মাত্রাটি হল Brightness Dimension :- উজ্জ্বলতা মাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক রশ্মি থেকে উজ্জ্বলতা পৃথক করে মস্তিষ্কে পরের করে । iii) এবং তৃতীয় মাত্রা হল Saturation বা Purity Dimension :- এই মাত্রায় তরঙ্গের তীব্রতার ভিত্তিতে বস্তুর প্রতিচ্ছবি গঠিত হয় ।

9. বর্ণ-শিখর (Colour pyramid) কি ?
উঃ চাক্ষুষ সংবেদনের তিনটি মাত্রার মধ্যবর্তী সম্পর্কটি কোনও রঙিন পিরামিড আকারে উপস্থাপন করা হলে তাকে বর্ণ-শিখর বলে । এই শিখরের পরিধির উপর Hue কে দেখানো হয়, উল্লম্ব অক্ষ উপর উজ্জ্বলতা মাত্রা এবং কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে চলে যাওয়া ব্যাসার্ধরেখার উপরে Saturation কে দেখানো হয় ।

10. The Duplicity Theory of Vision এর সূচনা কিভাবে হয় ?
উঃ রেটিনা দুই ধরনের কোষের সমন্বয়ে গঠিত, যথাঃ রড এবং কোন (Rods and Cones) কোষ । জার্মান অ্যানাটোমিস্ট Max Johann Sigismund Schultze বিভিন্ন প্রাণীর রড এবং কোন কোষে নিয়ে পরীক্ষা করে 1866 সালে প্রকাশিত তার “Zur Anatomie und Physiologie der Retina” গবেষণাপত্রে দেখিয়েছিলেন যে রড এবং কোন এর বিভিন্ন কার্যকারিতা রয়েছে এবং স্পষ্ট করেন যে এরা একে অপরের পরিপূরক, তার এই গবেষণাই The Duplicity Theory of Vision এর সূচনা করে ।

11. দৃশ্যগত সাধারণ ত্রুটিগুলি কিকি ?
উঃ দৃশ্যগত সাধারণ ত্রুটিগুলি হলঃ Hyperopia/Farsight Edness, Presbyopia, Myopia, Astigmatism, Tunnel Vision, Diplopia, Scotoma, Color Blindness :- Totally Color Blind & Partly Color Blind ইত্যাদি ।

12. শ্রবণ সংবেদন (Auditory/Hearing Sensation) কি ?
উঃ শব্দের উৎস থেকে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তা গ্রহণ করে তার প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া করাকে বলা হয় শ্রবণ সংবেদন । এরুপ সংবেদন তৈরিতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় কান বা কর্ণ সহায়তা করে থাকে । কানের মাধ্যমে কোন শব্দ আমাদের মস্তিষ্কে সঞ্চারিত হয় এবং তার ভিত্তিতেই মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়া করার পথ নির্দেশ করে থাকে ।

13. শ্রবণ সংবেদনে কানের কোন কোন অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ?
উঃ শ্রবণ সংবেদনে কানের তিনটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যথাঃ বহিঃকর্ণ (External or Outer Ear), মধ্য কর্ণ (Middle Ear) এবং অন্তঃ কর্ণ (Inner Ear) ।

14. শ্রবণ সংবেদনে কানের তিনটি অংশ কিভাবে কার্য সম্পাদন করে ?
উঃ শ্রবণ সংবেদনে কানের তিনটি অংশের মধ্যে বহিঃকর্ণ শব্দশক্তি ধারণ করে এবং তার চাপের প্রসারণ ঘটায় । মধ্য কর্ণ শব্দ শক্তিকে বায়ু থেকে Cochlea তে স্থানান্তরিত করে এবং অন্তঃ কর্ণ শব্দের যান্ত্রিক তরঙ্গকে ইলেকট্রিক সংকেতে পরিবর্তন করে স্নায়ুতে সঞ্চারিত করে ।

15. শ্রবণ সংবেদন ত্রুটিগুলি কিকি ?
উঃ শ্রবণ সংবেদনের ত্রুটিকে বলা হয় বধিরতা (Deafness) । মূলতঃ দুই ধরনের শ্রবণ সংবেদন ত্রুটি বা বধিরতা রয়েছে, যথাঃ Conduction Deafness এবং Sensorineural Deafness ইত্যাদি ।

16. মনোবৈজ্ঞানিক গুণাবলী অনুযায়ী শব্দ তরঙ্গ কয় প্রকার ?
উঃ মনোবৈজ্ঞানিক গুণাবলী অনুযায়ী শব্দ তরঙ্গ দুই প্রকার, যথাঃ Loudness (অনুভূত শব্দ তীব্রতা সম্পর্কিত মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি) এবং Pitch (শব্দের মৌলিক কম্পাঙ্ক সম্পর্কিত মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি)।

17. ঘ্রাণগত সংবেদন (Oflactory/Smelling Sensation) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ ঘ্রাণশক্তি বা গন্ধ অনুভূতি হ’ল একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া । বায়ুবাহিত কোন গন্ধ যখন নির্দিষ্ট ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে গৃহীত হয়ে স্নায়ুতে সঞ্চারিত হয়ে মস্তিষ্ককে বস্তুর রাসায়নিক সংমিশ্রণ সম্পর্কে তথ্য দেয় এবং উদ্দীপনা সৃষ্টিতে সহায়তা করে তখন তাকে ঘ্রাণগত সংবেদন বলে । স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে নাক বা নাসাতন্ত্র এর Chemoreceptors ঘ্রাণগত সংবেদনের মূল উৎস । নাসার Chemoreceptors টি Oflactory Epithelium পেশিতে অবস্থিত ।

18. গন্ধের প্রকারগুলি কিকি ?
উঃ গন্ধের কয়েকটি প্রকার হলঃ Camphoric, Musky, Roses, Pepoerminty, Etheral, Pungent, Putrid, Fruity, Spucy এবং Smoky

19. ঘ্রাণগত সংবেদন ত্রুটিগুলি কিকি ?
উঃ ঘ্রাণগত সংবেদন ত্রুটিগুলি হলঃ Anosmia :- ঘ্রাণ নিতে অক্ষমতা, Cacosmia :- যেকোনো ক্ষেত্রে মলের গন্ধ অনুভব, Dysosmia :- প্রকৃত গন্ধ থেকে আলাদা গন্ধ অনুভব, Hypersomia :- অস্বাভাবিক তীব্র গন্ধ বোধ, Hyposomia :- গন্ধ অনুভব ক্ষমতা কমে যাওয়া, Parosomia :- প্রত্যেক জিনিসের খারাপ গন্ধ অনুভূতি, Phantosomia :- ভ্রস্ট বা অলৌকিক গন্ধ অনুভব ইত্যাদি ।

20. স্বাদ সংবেদন (Test Sensation) কি ?
উঃ স্বাদ,আস্বাদন বা রাসন উপলব্ধি হলো পাঁচটি সনাতন অনুভূতির একটি । স্বাদ হলো এমন একটি সংবেদনশক্তি যা মুখের মধ্যে প্রবেশ করা কোন দ্রব্য সাথে স্বাদ কুঁড়ির রিসেপ্টরের রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রভাবে উৎপন্ন হয়। যে জৈবরাসায়নিক পদ্ধতিতে কোন বস্তুকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণের পর আমরা জিহ্বায় বা মুখে অবস্থিত স্বাদকোরকের মাধ্যমে আমরা ঐ বস্তুর স্বাদ অনুভব করতে পারি তাকে স্বাদ সংবেদন বলা হয় ।

21. প্রাথমিকভাবে আমরা কয়টি স্বাদ অনুভব করি ?
উঃ প্রাথমিকভাবে আমরা পাঁচটি স্বাদ অনুভব করি, যথাঃ মিষ্টি (Sweet), টক (Sour), নোনতা (Salty), তেতো (Bitter) এবং উমামি (Umami/Savory) ইত্যাদি ।

22. উমামি (Umami/Savory) স্বাদ কি ?
উঃ উমামি স্বাদ প্রাথমিক স্বাদের পঞ্চম স্বাদ । 1908 সালে জাপানি রসায়নবিদ Kikunae Ikeda এই স্বাদ বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কার করেন । ব্রোথ, গ্রাভি, স্যুপ, শেলফিস, ফিশ এবং ফিশ সস, টমেটো, মাশরুম, জলজ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, মাংসের নির্যাস, খামিরের নির্যাস, চিজ এবং সয়া সস প্রভৃতিতে এই স্বাদ অনুভূত হয় । পূর্বের চারটি স্বাদ থেকে ভিন্ন এই স্বাদ 1909 সাল থেকে MonoSodium Glutamate (MSG) বাণিজ্যিকভাবে উৎপন্ন হচ্ছে ।

23. স্পর্শ সংবেদন (Touch Sensation) কি ?
উঃ কোন বস্তু বা পার্থিব উপাদানের স্পর্স্বের মাধ্যমে যখন আমাদের মধ্যে ঐ বস্তু সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয় তখন তাকে স্পর্শ সংবেদন বলা হয় । মূলতঃ ত্বক বা চামড়ার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে স্পর্শ সংবেদন অনুভুত হয় । চামড়ার মাধ্যমে ঠাণ্ডা, গরম, মসৃণ, খসখসে, চাপ, ব্যথা, কম্পন, সুড়সুড়ি, চুলকনি ইত্যাদির অনুভুতি জাগে ।

24. ত্বকের সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা কয় ভাবে সম্পাদিত হয় ?
উঃ ত্বকের সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা দুই ভাবে সম্পাদিত হয়, যথাঃ i) বাস্তব অভিজ্ঞতা (Factual Experience) যেমন – চাপ, ব্যথা ইত্যাদি এবং ii) তাপ অভিজ্ঞতা (Thermal Experience) যেমন ঠাণ্ডা, গরম ইত্যাদি ।

25. Gate-Control Theory এর প্রবক্তা কে ?
উঃ কানাডিয়ান মনোবিদ Ronald Melzack এবং ব্রিটিশ স্নায়ুবিদ Patrick David Wall 1965 সালে ব্যথার “Gate-Control Theory” প্রবর্তন করেন ।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!