পুঞ্জিত ক্ষয় ll Massa Wasting

♥ পুজ্ঞিতক্ষয় (Mass Wasting )

সংজ্ঞা :- বাতাস, জলধারা,হিমবাহ প্রভিতি চলনশী মাধ্যমের সাহায্য চাড়া প্রধানত অভিকর্ষের প্রভাবে নিম্ন ঢাল বরাবর শিলা অবস্করের স্থানান্তর কে পুজ্ঞিতক্ষয় বলে l
ভূ-বিজ্ঞানী A.L.Bloom (1978) পুজ্ঞক্ষয় এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, পুজ্ঞিতক্ষয়ের ক্ষেত্রে আবহবিকার প্রাপ্ত পদার্থ সমূহ ভূমিভাগের ঢাল অনুসারে প্রবাহিত হয় ; এ ক্ষেত্রে বায়ু, ধাবমান জলধারা,বরফ অথবা তরল লাভা দ্বারা বাহিত হবে না l তবে জল এই কাজে সাহায্য করে থাকবে l

পর্যায়ণ সম্পর্কে পড়ুন এখান থেকে


শ্রেণীবিভাগ :- শিলা জাতীয় পদার্থের অভিকর্ষজ টানে নিম্নমুখী স্থানান্তরে গমন কে পুজ্ঞিত ক্ষয় বলে l
বৈজ্ঞানিক Sharp S.F (1978) পুজ্ঞিতক্ষয়ের যে শ্রেণীবিভাগ টি করেন তাকে প্রধান চারভাগে ও কতগুলি উপো বিভাগে ভাগ করা যায়,যেমন –(i) ধীর প্রবাহ (মৃত্তিFকা স্খলন,টেলাস স্খলন,শিলা স্খলন,শিলা হিমবাহ স্খলন );

(ii) দ্রুত প্রবাহ (ভূমি প্রবাহ, কর্দম প্রবাহ, ভগ্ন স্তূপ সম্প্রপাত ) ;

(iii) ধ্বস (ভগ্ন স্তূপ পাত,শিলা ধ্বস, শিলা পতন, হিমানী সম্প্রপাত জনিত ধ্বস ও স্লম্প )-এবং

(iv) অবনমন l

A. ধীর প্রবাহ :- মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পার্বত্যাঞ্চলে যখন শিথিল শিলা খন্ড ধীর গতিতে নেমে এলে তাকে ধীর প্রবাহ বলে l ইহা দুইভাগে বিভক্ত যথা –
বিসর্পন (Creep):- ঢাল যুক্ত অঞ্চলের উচ্চ অংশ থেকে ঢাল বেয়ে শিলা অবস্করের নিম্নে অবতরণ কে বিসর্পন বলে l ইহা তিনপ্রকারের, যথা –

a.Soil Creep :-সাধারণ ভাবে 5o থেকে 20o ঢাল যুক্ত অঞ্চলে অতি ধীরগতিতে (0.025-0.50 cm) মৃত্তিকা স্তরের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে চাদরের মতো ক্রমশঃ নিম্নে অবতরণ কে মৃত্তিকা বিসর্পণ বলে l নাতিশীতোষ্ণ ও শীতল জলবায়ু যুক্ত অঞ্চলে এর প্রধান্য অধিক l

b.Tales Creep :-25 o অপেক্ষা বেশী তথা 30o – 35o ঢাল যুক্ত অঞ্চলে হিমবাহ ক্ষয়িত কোনাকার প্রস্তর খন্ড বা ট্যালাস গুলি ধীরে ধীরে ঢাল বরাবর নেমে এলে তাকে Talus Creep বলে l শীতল জলবায়ু বা পার্বত্যাঞ্চলে এরূপ ক্ষয় সক্রিয় l

c.Rock Creep :-এ ক্ষেত্রে বৃহৎ আকৃতির বেলে পাথর, কংগ্লোমারেট, গ্রানাইট প্রভিতির অবতরণ ঘটে l

উচ্চ প্রাথমিক ইন্টারভিউ সম্পর্কিত কিছু তথ্য

Soli Fluction :- চিরতুষার এলাকায় জল মিশ্রিত অবস্থায় রেগোলিথের নিম্ন গামী গতিকে সোলি ফ্লাকশন বলে l ভূ-বিজ্ঞানী Enderson এঁর মতে -উচ্চ অক্ষাংশে কিম্বা অধিক উচ্চতা যুক্ত অঞ্চল গুলিতে তুষারের গলণ,ভূমি ঢালের কৌণিক মান, ভূমি ঢালে উদ্ভিদের স্বল্পতা এবং উচ্চ অক্ষাংশে হিমায়িত অঞ্চলে বরফের গলণ প্রভিতি অনুকূল পরিবেশের উপর ভিত্তিকরে জল সিক্ত মৃত্তিকা কণাগুলো নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে ভূমি-ঢাল বরাবর নীচের দিকে অবতরণ করলে তাকে ফ্লাকশন বলে l

B. দ্রুত প্রবাহ (Rapid Fiow):- মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে বেশী ঢাল যুক্ত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে শিলা খন্ড নীচের দিকে অপসারিত হলে তাকে পুজ্ঞিতক্ষয়ের দ্রুত প্রবাহ বলে l ইহা তিন প্রকারের,যথা –

মৃত্তিকা প্রবাহ (Earth Flow):- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে আলগা অবস্কর যুক্ত অঞ্চলের নীচে অপ্রবেশ্য শিলা থাকলে শীতের পর ঐ শিলা তুষার গলা জলে সম্পৃক্ত হয়ে উপরিভাগের অংশকে মৃদু ঢালে বা ঢাল বরাবর স্থানান্তরিত করে,একে ভূমি প্রবাহ বলে l যেসমস্ত অঞ্চলে ভূমিভাগের ঢাল 10o বা 15 ডিগ্রি এর বেশী সেসব অঞ্চলে এরূপ প্রবাহের দৈনিক হার কয়েক মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে l
কর্দম প্রবাহ (Mud Flow):- অধিক ঢাল যুক্ত পর্বত গাত্র বেয়ে জলের সহায়তায় সূক্ষ দানা যুক্ত মৃত্তিকার প্রবাহ কে কর্দম প্রবাহ বলে l প্রধানত শুষ্ক অঞ্চলে আকস্মিক মুষল ধারে বৃষ্টিপাতের পর মৃত্তিকা গ্রথনে জলের অনুপ্রবেশের ফলে সম্পৃক্ত হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ভূমিভাগের ঢাল বরাবর প্রবাহিত হয় এবং পর্বতের পাদদেশে বিস্তৃত পলল শঙ্কুর আকারে সঞ্চিত হয় l এই প্রবাহ বছরে কয়েক সেমি.থেকে কয়েক মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে l

প্রখ্যাত ভূ-বিজ্ঞানী Sharp কর্দমপ্রবাহকে (i)মরু প্রায় অঞ্চলের কর্দম প্রবাহ ,(ii)আলপাইন অঞ্চলের কর্দম প্রবাহ এবং (iii)আগ্নেয় গিরির জ্বালামুখের অঞ্চলের কর্দম প্রবাহ এই তিনভাগ বিভক্ত করেন l

পড়ুন :- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ

অবস্কর প্রবাহ (Debris Flow):- সূ-উচ্চ পার্বত্যাঞ্চলে খাড়া ঢালে সঞ্চিত বিভিন্ন শিলা খন্ড যখন কর্দমাক্ত তুষারের সাথে মিশে সম্প্রপতের আকারে হটাত্ গতি প্রাপ্ত হয়ে নীচে নেমে আসে তখন তাকে অবস্কর বলে l

C. ধ্বস :- কোন দুর্বলাংশ যেমন স্তরায়তল,শিলা সম্ভেদ তল বরাবর স্খলিত হয়ে সুসংবদ্ধ শিলা অবস্কর সংস্করণের নিম্ন ঢাল বরাবর বিসর্পন কে ধস বলে l আবার উচ্চ ভূমি হতে যখন এক বা একাধিক ভগ্ন স্তূপ অবিরামভাবে এবং পর্যায়ক্রমে নীচের দিকে সরে আসে তখন তাকে ধস বলে l ভূমি ধসের আয়তন কয়েক ঘন মিটার থেকে 109 ঘনমিটার এবং গতি দৈনিক কয়েক সেমি থেকে সেকেন্ডে 100 মিটার পর্যন্ত হতেপারে l

একে আবার 5 ভাগে ভাগ করা যায়,যথা –
Slump :- নদী বা সমূদ্র তরঙ্গের পাদ মূলে ক্ষয় কার্যের ফলে মাঝারী ধরণের ঢাল যুক্ত অঞ্চলে সৃষ্ট ধস এটি l
Debris Slide :- এই প্রকৃয়ায় ঢাল যুক্ত অঞ্চলেশিথিল মৃত্তিকা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে নীচে নেমে আসে l
Debris Fall :- ঢালের নিম্নাংশে নদীর মস্তক ক্ষয়ের প্রভাবে ঝুলে থাকা মৃত্তিকা স্তুপের শিথিল অবস্থায় উলম্ব পতনকে অবস্কর পতন বলে l
Rock Fall :- এই প্রকৃয়ায় চ্যুতি তল বা স্তরায়তল বা কোন দারন বরাবর ঢালে অপেক্ষাকৃত বড় শিলা খন্ড গুলি গড়িয়ে পড়ে l
Rock Slide :- উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে যথাক্রমে বর্ষা ও বসন্ত কালে বৃষ্টির জলে সম্পৃক্ত অবস্থায় পার্বত্যাঞ্চলের শিলা খন্ড নিম্নে অবতরণ করলে তাকে Rock Fall বলে l

D. অবনমন :- কোন অঞ্চল হটাতৎ বসে গেলে তাকে অবনমন বলেন l যেমন – রানীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল প্রায়শই বসে গিয়ে প্রাণ ও সম্পত্তি হানি ঘটে l
NAMO AGAIN

Cause Of Mass Wasting :-

♣ বাতাস, জলধারা,হিমবাহ প্রভিতি চলনশীল মাধ্যমের সাহায্য চাড়া প্রধানত অভিকর্ষের প্রভাবে নিম্ন ঢাল বরাবর শিলা অবস্করের স্থানান্তর কে পুজ্ঞিতক্ষয় বলে l

কারণ :- পুজ্ঞিতক্ষয়ের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হল (i)ভূমি ঢালের কৌণিক মান এবং তার সঙ্গে অবস্করের ভারসাম্য গত আপেক্ষিক অবস্থান l
(Ii) ভূমি ঢাল বরাবর নীচের দিকে অবস্কর স্থানান্তরের হার l
(Iii) শিলা স্তরের নতি এবং অভিকর্ষ বলের প্রভাব l
(Iv) অবস্করের আকার ও আয়তন l
(v) উদ্ভিদের প্রভাব ও মানুষের কার্যাবলী l
(vi) জলধারার সক্ষমতা ইতাদি l

Sharp পুজ্ঞিতক্ষয়ের করণ কে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন,যথা –

A. Active Factor :- পুজ্ঞিতক্ষয়ের সক্রিয় কারণগুলো হল –
ঢাল যুক্ত অঞ্চলে (বোঝার)চাপ বৃদ্ধি :- সাধারণত অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,তুষারপাত,পর্বত গাত্রে ট্যালাস সঞ্চয়,গৃহনির্মাণ,আবর্জনা সঞ্চয়, পাইপ লাইন নির্মাণ প্রভিতি কারণে ঢাল যুক্ত অঞ্চলে বোঝার চাপ বৃদ্ধির ফলে ;
অবলম্বন তাপ সরণ :-গুহা যুক্ত অঞ্চলে বা চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে অবলম্বন তাপ সরণের ফলে;
ভূমির ঢাল বৃদ্ধি :-বিভিন্ন (খাল খনন,হ্রদ তৈরি,খনি,রাস্তা নির্মাণ ইতাদি)কারণে ভূমির ঢাল বৃদ্ধি পেলে ;
শিলার কম সহনশীলতা :-আবহ বিকার,ভূকম্পন,বনভূমি হ্রাস ইতাদির ফলে শিলার সহনশীলতা কমে গেলে — পুজ্ঞিতক্ষয় ঘটে l
B. Passive Cause :- পুজ্ঞিতক্ষয়ের গৌণ কারণগুলো হল –
শুষ্ক আবহাওয়া :- শুষ্ক আবহাওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হলে জল পিচ্ছিল কারক উপাদান হিসাবে কাজ করে পুজ্ঞিতক্ষয়ে সাহায্য করে l
এ ছাড়া অনান্য গৌণ কারণগুলো হল –

এবার কি নবম থেকে দ্বাদশ স্তরে TET ?

আবহ বিকার
পুজ্ঞিত বস্তুর অবস্থান
কোমল শিলার উপস্থিতি
অরণ্য বিনাশ ইতাদি l

পড়ুন 👉 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সংবিধান

পড়ুন 👉 সাধারণ বিজ্ঞান থেকে পরিমাপ পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

পড়ুন 👉 জীবন বিজ্ঞান স্পেশাল প্রশ্নোত্তর

পড়ুন 👉 ডিজিটাল তথ্য

পড়ুন 👉 ভারতীয় অর্থনীতির সাতকাহন

পড়ুন 👉 সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নোত্তরের প্রথম পর্ব

পড়ুন 👉 সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নোত্তরের দ্বিতীয় পর্ব

পড়ুন 👉 ভারতীয় সংবিধানের প্রশ্নোত্তর


আপনি কি ভূগোল বিষয়ে আগামি SLST এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাহলে মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়ার SLST GEOGRAPHY ONLINE COACHING এ অংশগ্রহণ করতে নিচের লিঙ্কে প্রবেশ করুন

MGI SLST GEOGRAPHY ONLINE COACHING

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!