শিখন অভিজ্ঞতার সংগঠন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থা // Organisation of Learning Experiences and School System

শিখন অভিজ্ঞতার সংগঠন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থা (Organisation of Learning Experiences and School System)
*******************************

 

1) শিখন অভিজ্ঞতা বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে যখন নির্বাচিত পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সুনিপুণ পরিকল্পনা করা হয় তখন তাকে শিখন অভিজ্ঞতা বলে । (When an experience is deliberately planned for students in selected situations to achieve certain defined learning objectives it is said to be learning experience.)

2) শিখন অভিজ্ঞতার সংগঠনে প্রধান নিয়ন্ত্রক কিকি ?
উঃ শিখন অভিজ্ঞতার সংগঠনে প্রধান নিয়ন্ত্রক হল নির্দেশনাদান, সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী এবং বিশেষ শিক্ষার্থীদের শিখন কৌশল ইত্যাদি ।

3) নির্দেশনাদান (Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে যখন কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ তাদের অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে তখন তাকে নির্দেশনাদান বলে । আমেরিকান মনোবিদ Ruth May Strang (1954) এর মতে ‘নির্দেশনা হল ব্যক্তিকে সাহায্য করার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজস্ব প্রশান্তি ও সামাজিক প্রয়োজনীয়তার জন্য নিজের চেষ্টায় স্ব-ক্ষমতার উদ্ভাবন ও বিকাশ ঘটাতে পারে ।
American Education Research Association এর মতে ‘নির্দেশনা হল একটি প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন উপাদান সমন্বিত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা অর্জনে এবং পূর্বপরিকল্পিত শিখন আয়ত্বিকরনে সাহায্য করে ।’

4) নির্দেশনার বিভিন্ন রুপগুলি কিকি ?
উঃ প্রাথমিকভাবে নির্দেশনার দুটি রুপ পরিলক্ষিত হয় যথাঃ A) প্রকৃতিগত নির্দেশনা এবং B) পরিচালনগত নির্দেশনা ।

5) নির্দেশনার প্রকৃতির ভিত্তিতে নির্দেশনা কয় প্রকার ?
উঃ নির্দেশনার প্রকৃতির ভিত্তিতে নির্দেশনা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যথাঃ i. শিক্ষাগত নির্দেশনা, ii. বৃত্তিমূলক নির্দেশনা, iii. ধর্মীয় নির্দেশনা, iv. পারিবারিক নির্দেশনা, v. নাগরিকত্বের নির্দেশনা, vi. অবসর বিনোদনের নির্দেশনা, vii. নৈতিক নির্দেশনা, viii. ব্যক্তিগত নির্দেশনা, ix. সহযোগিতার নির্দেশনা, x. সাংস্কৃতিক নির্দেশনা ইত্যাদি ।

6) নির্দেশনার পরিচালনার ভিত্তিতে নির্দেশনা কয় প্রকার ?
উঃ নির্দেশনার পরিচালনার ভিত্তিতে নির্দেশনা দুই প্রকার, যথাঃ i. একক ব্যক্তিগত নির্দেশনা এবং ii. দলগত নির্দেশনা ।

7) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় নির্দেশনার ক্ষেত্রগুলি কিকি ?
উঃ বিদ্যালয় ব্যবস্থায় নির্দেশনার ক্ষেত্রগুলি হলঃ A) শিক্ষাগত নির্দেশনা, B) সামাজিক নির্দেশনা, C) বৃত্তিমূলক নির্দেশনা, D) স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা, E) অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা এবং F) ব্যক্তিগত নির্দেশনা ।

8) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় শিক্ষাগত নির্দেশনা (Educational Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণের সময় যথাযথ পাঠ্যসূচি নির্বাচন, শিখন সমস্যার সমাধান, সৃজনশীলতার প্রতিপালন, প্রেষণার সঞ্চার, আগ্রহ ও চিন্তনের বিকাশের সাহায্যে সামগ্রিক শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক/শিক্ষিকা বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা গৃহীত প্রয়োজনীয় সাহায্যপ্রদানকে শিক্ষাগত নির্দেশনা বলা যায় ।

9) শিক্ষাগত নির্দেশনাদানে বিদ্যালয়ের ভূমিকা কিরূপ ?
উঃ শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম । শিক্ষার্থীদের বোদ্ধিক ক্ষমতা, আগ্রহ, মনোযোগ, সক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ইত্যাদির পার্থ্যকের করণে উদ্ভূত শিখন সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয়ের নির্দেশনাদান আবশ্যক । এক্ষেত্রে i. বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষাগত পারদর্শিতার রেকর্ড রাখা উচিৎ যাতে তার ভিত্তিতে কোন শিক্ষার্থীর চাহিদা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা সম্ভব হয় । ii. বিদ্যালয়ে উদ্ভূত অসফলতার হার, বিদ্যালয়ছুট, অপচয়, অনুন্নয়ন প্রভৃতি সমস্যার সমাধানে অভিজ্ঞ নির্দেশক এর পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় । iii. বিদ্যালয় শিক্ষাগত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদকে ‘শিক্ষা বন্ধু’ হিসাবে নিয়োজিত করতে পারে । iv. শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত এবং নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে । v. বয়ঃসন্ধিক্ষণে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাগত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে মনোবিদ এর মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশদান নিশ্চিত করতে পারে বিদ্যালয় ।

10) শিক্ষাগত নির্দেশনাদানের প্রধান বৈশিষ্টগুলি কিকি ?
উঃ শিক্ষাগত নির্দেশনাদানের প্রধান বৈশিষ্টগুলি হলঃ i. এরুপ নির্দেশনা শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে । ii. এরুপ নির্দেশনা ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধ ভাবে সম্পন্ন হয় । iii. নির্দেশদানের প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন শিক্ষক/শিক্ষিকা, উপদেষ্টামন্ডলী, অভিভাবক, বিদ্যালয় নিযুক্ত বিশেষ পরামর্শদাতা ও মনোবিদ ইত্যাদি । iv. এরুপ নির্দেশদান শিক্ষার প্রারম্ভ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলতে থাকে । v. ইহা শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তাবৃদ্ধি, সমস্যা সমাধান কৌশল আয়ত্বিকরণ, উদ্ভাবন ক্ষমতা প্রভৃতির বিকাশে সাহায্য করে ।

11) শিক্ষাগত নির্দেশনাদানের উদ্দেশ্য কি ?
উঃ শিক্ষাগত নির্দেশনাদানের প্রধান কয়েকটি উদ্দেশ্য হলঃ i. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্দেশনার মাধ্যম, শিক্ষার সঠিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা । ii. বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীর অগ্রগতির ধারা বৃদ্ধি করা । iii. শিখন অক্ষমতা শনাক্ত করে বিকল্প ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা । iv. শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করা ইত্যাদি ।

12) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় সামাজিক নির্দেশনা (Social Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষা ব্যবস্থায় সামাজিক মিথস্ক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশ । বিভিন্ন সামাজিক বিষয় যেমনঃ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, নেতৃত্বদান, দলের সদস্য হিসাবে কর্ম সম্পাদন, সুস্থ ও ধনাত্মক মনোভাবের বিকাশ, সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার অনুসন্ধান ও তার প্রতিকার সাধন প্রভৃতি আত্তীকরনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সামনে উদ্ভূত সমস্যা নিরসন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাহায্য প্রদানের কৌশলকে সামাজিক নির্দেশনাদান বলা হয় ।

13) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় বৃত্তিমূলক নির্দেশনা (Vocational Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ যে নির্দেশনা শিক্ষার্থীকে তার বৃত্তিগত চাহিদা ও সমস্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও কর্মপন্থা সম্পাদনের জন্য ব্যবহার করা হয় তাকে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বলে ।

14) বৃত্তিমূলক নির্দেশনার বৈশিষ্টগুলি কিকি ?
উঃ বৃত্তিমূলক নির্দেশনার প্রধান বৈশিষ্টগুলি হলঃ i. ইহা বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য, কর্ম পদ্ধতি এবং অভিমুখ নির্দেশ করে । ii. এরুপ নির্দেশনা দলগত এবং দীর্ঘ সময়কালীন । iii. শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে এরুপ নির্দেশনা কার্যকর হয় । iv. এরুপ কর্মসূচি অপেক্ষাকৃত জটিল এবং সময়স্বাপেক্ষ । v. নির্দেশদানের প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন শিক্ষক/শিক্ষিকা, উপদেষ্টামন্ডলী, অভিভাবক, বিদ্যালয় নিযুক্ত বিশেষ পরামর্শদাতা, শিল্প সংস্থার কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ সংস্থার কর্মকর্তা ইত্যাদি ।

15) বৃত্তিমূলক নির্দেশনার উদ্দেশ্য কি ?
উঃ বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কয়েকটি উদ্দেশ্য হলঃ i. শিক্ষার্থীদের পছন্দমতো বিভিন্ন পেশা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা । ii. শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত শক্তি, দৃষ্টিভঙ্গি, সক্ষমতা, চাহিদা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রকৃত অবস্থান উদ্ঘাটন করা । iii. শিক্ষার্থীর দুর্বলতা ও সক্ষমতা খুঁজে বেরকরতে সহাজ্য করা । iv. পেশা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিশেষ বিশেষ দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ধারণা প্রদান করা । v. কোন পেশার সুবিধা, অসুবিধা ও পেশাগত মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত করা ইত্যাদি ।



MGI PRIME TET ONLINE COACHING
*********************************

মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া এবার আপনার TET এর প্রস্তুতিতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত । PRIMARY থেকে SLST যেকোনো স্তরের TET এর প্রস্তুতির জন্য আরম্ভ হয়েছে MGI PRIME TET ONLINE COACHING, সত্বর যুক্ত হতে নিচের ছবিতে  ক্লিক করুনঃ ⇓⇓

অথবা যোগাযোগ করুনঃ 8640890159 এ

বর্তমানে শিক্ষকতার জন্য প্রায় প্রতিটি স্তরে TET অবশ্যম্ভাবী, তাই একই যায়গায় সমস্ত স্তরের TET বিষয়ের আলোচনার জন্য আরম্ভ করা হলো MGI PRIME TET ONLINE COACHING, যেখানে শিশু মনস্তত্ব, বাংলা, ইংরাজি, মূল্যায়ন (ASSESSMENT), ভূগোল, ইতিহাস, পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ের PEDAGOGY থেকে 100+ টপিকের আলোচনা করা হবে সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে ।

এক বছরের সম্পূর্ণ কোর্সে থাকছে

A) 100+ টপিকের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা এবং পঠন পাঠনে প্রতিফলন সম্পর্কে আলোচনা ।

B) 30 টি মক টেস্ট, প্রত্যেক মক টেস্ট 90 টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন সম্বলিত ।

C) সপ্তাহে এক দিন নির্দিষ্ট সময়ে গ্রুপ আলোচনা ।

D) সম্পূর্ণ কোর্সে 100+ টপিক থেকে 5000+ প্রশ্নোত্তরের বিশাল সংকলন ।

E) 30 টি মক টেস্ট থেকে 2,700 MCQ প্রশ্নোত্তর ।

কোর্সে যুক্ত হওয়ার জন্য নিচের ছবিতে ক্লিক করুনঃ ⇓⇓



16) বৃত্তিমূলক নির্দেশনাদানে বিদ্যালয়ের ভূমিকা কিরূপ ?
উঃ বৃত্তিগত নির্দেশনাদানে বিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম । সফলভাবে এরুপ কার্য সম্পাদনের জন্য :- i. শিক্ষার্থীদের বৃত্তিগত অনুরাগ সৃষ্টির জন্য বিদ্যালয়কে পেশাগত সচেতনতার বিশেষ ক্লাস নিতে হবে । ii. বিদ্যালয়গুলি বৃত্তিমূলক শাখার উন্নয়ন ঘটানো বা নতুন করে সংযোজন করা বাঞ্ছনীয় । iii. বৃত্তিমূলক নির্দেশনাদানের মাধ্যমে পেশার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উন্নয়ন ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পথ সুগম করতে হবে ।

17) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত নির্দেশনা (Individual Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ যে নির্দেশনা কোন ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে তাকে ব্যক্তিগত নির্দেশনা বলে ।

18) ব্যক্তিগত নির্দেশনার বৈশিষ্টগুলি কিকি ?
উঃ বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি ব্যক্তি প্রতিযোগিতামূলক জটিল পরিস্থির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় আর এই সময়েই প্রয়োজন ব্যক্তিগত নির্দেশনা । এর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট হলঃ i. ব্যক্তিগত নির্দেশনা ব্যক্তিগত বিভন্ন সমস্যার নিরসনে সাহায্য করে । ii. ব্যক্তির মানসিক চাপ, দ্বন্দ্ব, হতাশা, উত্তেজনা ইত্যাদি প্রশমনে সহায়ক । iii. পরিমিত প্রক্ষোভিক ভাব প্রকাশে সাহায্য করে । iv. ব্যতিক্রমী শিশু, অস্বাভাবিক শিশু ও অপসংগতিপূর্ণ শিশুদের মানষিক সংগঠনে বিশেষ সাহায্য করে । v. ব্যক্তির হীনমন্যতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি দূর করে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় সাহায্য করে ।

19) ব্যক্তিগত নির্দেশনার উদ্দেশ্য কি ?
উঃ ব্যক্তিগত নির্দেশনার উদ্দেশ্য গুলি হলঃ i. ব্যক্তির নিজস্ব সমস্যা শনাক্তকরণ করা । ii. ব্যক্তির প্রক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা । iii. অপসংগতিমূলক আচরনের কারণ খুঁজে বের করে তা সংশোধনে সাহায্য করা । iv. ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত করা ইত্যাদি ।

20) ব্যক্তিগত নির্দেশনাদানে বিদ্যালয়ের ভূমিকা কিরূপ ?
উঃ মানুষ তার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে বিদ্যালয়ে । শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়ষ্কতার প্রতিটি পর্যায় অতিবাহিত হয় বিদ্যালয়ের পরিবেশেই আর এই সময়েই বিভিন্নরকম ব্যক্তিগত সমস্যার সম্ভাবনা অধিক । তাই বিদ্যালয়কে :- i. ব্যক্তিগত নির্দেশনাদানের মধ্য দিয়ে শিশুর বিকাশকালীন বিভিন্ন স্তর সমূহে উদ্ভূত মানসিক সমস্যার সমাধান করতে হবে । ii. শিক্ষার্থীদের সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য গড়ে তোলার জন্য এবং দৈহিক ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বিকাশের জন্য মনস্তাত্ত্বিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে । iii. বয়ঃসন্ধিকলে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা, বিরূপ আচরণ, প্রক্ষোভ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তা সংশোধনের জন্য সাহায্য করতে হবে । iv. বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে ।

21) বিদ্যালয় ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা (Health Guidance) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ স্বাস্থ্যই সম্পদ । ব্যক্তি তার নিজের জীবনের বিকাশকাল অতিবাহিত করে বিদ্যালয়পরিসরে । তাই এই সময় শিশুর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দুর্বল দিকগুলি অনুসন্ধান করে তার কারণ নির্ণয় করে তা নিরসন করার জন্য যে নির্দেশনা প্রদান করা হয় তাকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা বলে । এরুপ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অভিভাবকের সাহায্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

22) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী (Co-curricular Activity) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ পাঠ্যক্রমের সহযোগী যেসমস্ত কার্যাবলী শিক্ষার্থীর জ্ঞানমূলক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সাথে সাথে জীবনের সর্বাঙ্গীন বিকাশের অন্যান্য আনুষঙ্গিক দিকের উন্নয়নে সাহায্য করে তাদের একত্রে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী বলে । এরুপ কার্যাবলী শ্রেণী কক্ষের বাইরে সম্পাদিত হয় । যেমনঃ খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সংগীত চর্চা ইত্যাদি ।

23) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী ধারণার পিঠস্থান ধরা হয় কোন প্রতিষ্ঠান কে ?
উঃ সিঙ্গাপুরের The Ministry of Education কে । আধুনিক সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী ধারণার নীতি এই সংস্থা প্রথম প্রবর্তন করে ।

24) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী সম্পর্কে মুদালিয়ার কমিশনের অভিমত কি ?
উঃ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী সম্পর্কে মুদালিয়ার কমিশনের অভিমতটি হলঃ “Curricular and Co-curricular works are the two sides of the same coin one being complementary to the others.”

25) বর্তমানে কতগুলি বিষয় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর অন্তর্গত ?
উঃ বর্তমানে 9 টি বিষয় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর অন্তর্গত, যথাঃ i. শারীরিক কার্যাবলী, ii. জ্ঞানমূলক বা সাহিত্য বিষয়ক কার্যাবলী, iii. সাংস্কৃতিক কার্যাবলী, iv. বিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনমূলক কার্যাবলী, v. সৃজনাত্মক কার্যাবলী, vi. পৌর শিখন কার্যাবলী, vii. সামাজিক কার্যাবলী, viii. বহুমুখী কার্যাবলী এবং ix. অবসর যাপনের কার্যাবলী ইত্যাদি ।

26) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হিসাবে শারীরিক কার্যাবলী বলতে কি বোঝায় ?
উঃ যেসকল সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর পুনঃপুন অভ্যাসে শিক্ষার্থীর দৈহিক বিকাশ তরান্বিত হয় এবং একই সাথে দলবদ্ধ ভাবনা, নিজেকে প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা বিকশিত হয় সেইসমস্ত কার্যাবলীকে শারীরিক কার্যাবলী বলে । এরুপ কার্যাবলীগুলি হলঃ i. খেলাধুলার চর্চা, ii. ব্যায়াম অনুশীলন, iii. শরীরচর্চামূলক কার্যাবলী ইত্যাদি । কৈশোর কালে দৈহিক গঠনে খেলাধুলার প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি ।

27) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হিসাবে জ্ঞানমূলক বা সাহিত্য বিষয়ক কার্যাবলী বলতে কি বোঝায় ?
উঃ যেসকল সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর পুনঃপুন অভ্যাস শিক্ষার্থীর শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে সেইসমস্ত কার্যাবলীকে জ্ঞানমূলক কার্যাবলী বলে । এরুপ কার্যাবলী হলঃ সাহিত্য চর্চা, আলোচনাচক্র, প্রদর্শনীর আয়োজন, সেমিনারে অংশগ্রহণ, বিদ্যালয়ে দেওয়াল পত্রিকা লিখন ইত্যাদি । এরুপ কার্যাবলীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অহং সত্বার বিকাশ ঘটে এবং সুশৃঙ্খলভাবে যুক্তিপূর্ণ ধারাবাহিকতায় নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষমতা অর্জন করে ।

28) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হিসাবে সাংস্কৃতিক কার্যাবলী বলতে কি বোঝায় ?
উঃ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে যেসব পরিকল্পিত কার্যাবলীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সাংস্কৃতিক আচরণের বিকাশ ঘটে সেগুলিকে সাংস্কৃতিক কার্যাবলী বলে । যেমনঃ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, নাট্যঅনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, কবিতা আবৃত্তি, বিদ্যালয় সংরক্ষণশালা সংগঠন ইত্যাদি । এরুপ কার্যাবলীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী সংস্কৃতিমনস্ক হয়ে ওঠে এবং গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে সৃষ্টির আনন্দে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি সমূহ তৃপ্ত হয় । স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে শিক্ষার্থী নিজেকে মেলে ধরতে পারে ।

29) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হিসাবে বিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনমূলক কার্যাবলী বলতে কি বোঝায় ?
উঃ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও পরিচালনামূলক কার্যে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করার সুযোগকে বিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনমূলক কার্যাবলী বলা হয় । এই ধরনের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী প্রশাসনমূলক কাজের অনুরূপ । এরুপ কার্যাবলী শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং নেতৃত্বদানের গুণাবলীর উন্মেষ ঘটায় । যেমনঃ হাউস প্রথার কাজ, পথিকৃৎ প্রথার কাজ, ছাত্রসংসদের কাজ, পরিষদীয় ব্যবস্থার কাজ প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ ইত্যাদি ।

30) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী হিসাবে সৃজনাত্মক কার্যাবলী বলতে কি বোঝায় ?
উঃ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে যেসব কাজ শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে এবং সৃজনী স্পৃহা বিকাশে সুযোগ দেয় সেগুলিকে সৃজনাত্মক কার্যাবলী বলে । বিভন্ন ধরনের সৃজনমূলক লেখার কাজ, অঙ্কন কাজ, নতুন জিনিস তৈরি ইত্যাদি এরুপ কার্যাবলীর অন্তর্গত ।

 

পোস্ট টি গুরুত্ব সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!