Role of Teacher’s in Geography Teaching॥ ভূগোল শিক্ষণে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা

ভূগোল শিক্ষণে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা (Role of Teacher’s in Geography Teaching)

 

1. শিক্ষক/শিক্ষিকা (Teacher) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষক বলতে বোঝায় শিক্ষার্থীর মধ্যে গতানুগতিক বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা সঞ্চালনকারী ব্যক্তিত্বকে । অর্থাৎ যখন কোন ব্যক্তি বিশেষ প্রয়োজনে অথবা সাধারণ অবস্থায় নিয়মবদ্ধ পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত তথ্য, তত্ব বা কার্যগত দিক সমন্ধে জ্ঞান সঞ্চার করেন তখন সেই ব্যক্তিকে শিক্ষক/শিক্ষিকা বলা হয় । উইকিপিডিয়া অনুযায়ী “শিক্ষাদানের মহান ব্রত যার কাজ তাকেই শিক্ষক বলা হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিতদেরই শিক্ষক বলা হয়। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতার কাজে যারা আছেন তাদেরকে শিক্ষক বলা হয় আর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধ্যাপক বলা হয়ে থাকে ।”

2. আদর্শ শিক্ষক বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আদর্শ শিক্ষা বিজ্ঞান অনুসরণ করে যে শিক্ষক শিক্ষা প্রদান করেন তাঁকে আদর্শ শিক্ষক বলা হয় । শিক্ষকের ‘আদর্শ’ একটি উচ্চ ধারণা । আদর্শ শিক্ষক সমন্ধে Henry B. Adams এর একটি উক্তি উল্লেখ করাই যায়, তার মতে “A teacher affects eternity; he [or she] can never tell where his influence stops.”

3. আদর্শ শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষা কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি কিরূপ ?
উঃ Indian Education Commission (1964-66) এর দৃষ্টিতে আদর্শ শিক্ষক সম্পর্কে বলা হয়েছে “Of all the different factors, which influence the quality of education and its contribution to National Development, the quality, competence and characters of teachers are undoubtedly the most significant.”

4. শিক্ষক পারদর্শিতা (Teacher Competencies) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষক পারদর্শিতা বলতে বোঝায় শিক্ষক তার শিক্ষণ প্রক্রিয়াকালে যে দক্ষতা, জ্ঞান এবং কৌশল অবলম্বন করে শিখন প্রক্রিয়াকে সরল ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হন সেই সক্ষমতাকে । শিক্ষক পারদর্শিতা শিক্ষকের স্থিতিশীল বৈশিষ্ট্য পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেও ইহা পরিবর্তিত হয় না ।

5. শিক্ষক পারদর্শিতার উপাদানগুলি কিকি ?
উঃ তুরস্কের শিক্ষাবিদ Kiymet Selvi 2010 সালে প্রকাশিত তার “Teachers’ Competencies” নামক আর্টিকেলে শিক্ষক পারদর্শিতার ন’টি উপাদান উল্লেখ করেছেন, যথাঃ i) ক্ষেত্র পারদর্শিতা (Field competencies), ii) গবেষণা পারদর্শিতা (Research competencies), iii) পাঠক্রমিক পারদর্শিতা (Curriculum competencies), iv) প্রাক্ষোভিক পারদর্শিতা (Emotional Competencies), v) জীবনব্যাপী শিখন পারদর্শিতা (Lifelong Learning Competencies), vi) সামাজিক-সাংস্কৃতিক পারদর্শিতা (Social Cultural Competencies), vii) সংযোগ পারদর্শিতা (Communication Competencies), viii) পরিবেশগত পারদর্শিতা (Environmental Competencies) এবং ix) তথ্য ও সংযোগ প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা (Information and Communication Technology Competencies) ইত্যাদি ।

6. একজন ভূগোল শিক্ষকের আবশ্যিক প্রধান যোগ্যতাগুলি কিকি ?
উঃ একজন ভূগোল শিক্ষকের আবশ্যিক প্রধান যোগ্যতাগুলি হল শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত যোগ্যতা ।

7. একজন ভূগোল শিক্ষকের আবশ্যিক শিক্ষাগত যোগ্যতা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয় ?
উঃ শিক্ষার্থীর বয়স অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, যথা প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা । প্রাথমিক স্তরের ভূগোল শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চ প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে ভূগোলে শিক্ষকতার জন্য স্নাতক ও B.ed এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ভূগোলে শিক্ষকতার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে MA. B.Ed প্রয়োজন হয় ।

8. একজন ভূগোল শিক্ষকের আবশ্যিক পেশাগত যোগ্যতা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয় ?
উঃ পেশাগত যোগ্যতা কোন পেশায় ক্রমোন্নতির সূচক । একজন শিক্ষকের যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা আবশ্যিক তেমনি পেশাগত যোগ্যতাও বাঞ্ছনীয় । একজন ভূগোল শিক্ষকের আবশ্যিক পেশাগত যোগ্যতা হিসাবে পরিবর্তিত শিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজনীয় । সর্বাধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি এবং ভূগোলের আধুনিক জ্ঞান, পরিবর্তনশীল ধারণা, ভৌগোলিক আলোচনার বিভিন্ন ঘরানা (School) সম্পর্কে ধারণা এবং নতুন নতুন প্যারাডাইম সম্পর্কিত স্পষ্ট ধারণা একজন ভূগোল শিক্ষককে পেশাগতদিক থেকে যোগ্য করে তোলে ।

9. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলি কিকি ?
উঃ অন্য বিষয়ের আদর্শ শিক্ষকের কার্যকারিতার মতো একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রধান পাঁচটি উপাদান প্রভাব বিস্তার করে । এই প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলি হলঃ i) ব্যক্তিগত উপাদান (Personal Factors), ii) পেশাগত উপাদান (Professional Factors), iii) বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদান (Intellectual Factors), iv) শিক্ষণ কৌশল (Strategies of Teaching) এবং v) সামাজিক অবস্থা (The Social Aspects) ইত্যাদি ।

10. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিগত উপাদান বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিখন কার্যকরীতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিগত উপাদান শিক্ষককে আদর্শতা প্রদান করে । এই উপাদানগুলির মধ্যে প্রগতিশীল এবং নিরলসভাবে কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা, উন্নত নির্দেশিকা এবং মড্যুলেশন, শিক্ষার্থীদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা এবং কার্যকর কর্মশৈলী ইত্যাদি অন্যতম ।

11. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী পেশাগত উপাদান বলতে কি বোঝায় ?
উঃ কোন পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির সেই পেশার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী ঐকান্তিক মনোভাবকে পেশাগত উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে । একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী পেশাগত উপাদানগুলি হল শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, উন্নত ও আধুনিক পরিকল্পনা এবং কাজের নিদর্শন উপস্থাপন ক্ষমতা, সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য স্থিরিকরণ কৌশল, নিত্যনতুন ও আধুনিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা প্রদান করে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা ইত্যাদি ।

12. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদান বলতে কি বোঝায় ?
উঃ বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদান কোন কাজের অগ্রগতির রূপরেখা নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান । একজন শিক্ষক তার বুদ্ধির মাত্রার উপর বিষয়কে বিভিন্ন রুপে আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপনে সক্ষম হন । একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানগুলি হল আলোচ্য বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সমসাময়িক দৃষ্টিভঙ্গি বা জ্ঞানের মাধ্যমে বিষয়ের আলোচনা উপস্থাপনের ক্ষমতা ইত্যাদি ।

13. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী শিক্ষণ কৌশলগত উপাদান বলতে কি বোঝায় ?
উঃ কৌশল কোন কার্যাবলীকে সুনিয়ন্ত্রিত ও সহজভাবে সম্পাদনে সহায়তা করে । শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়কে সহজভাবে অবগত করানোর জন্য শিক্ষক যে কৌশল অবলম্বন করে তাকে শিক্ষণ কৌশল বলা হয় । একজন ভূগোল শিক্ষক তার কার্যকরীতাকে আদর্শভাবে উপস্থাপনের জন্য যেসমস্ত শ্রেণীকক্ষ শিক্ষণ কৌশল অবলম্বন করতে পারে তাদের কয়েকটি হল – পৃথক পৃথক বিষয়বস্তু অনুসারে গৃহীত উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি, শিশু কেন্দ্রিক শিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ, গ্রুপ আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রুপ সক্রিয়করণ কৌশল, বিষয়বস্তু আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ প্রদর্শন কৌশল অবলম্বন ইত্যাদি ।

14. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক অবস্থা বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষক ভবিষৎ সমাজের রূপকার, তার আদর্শে আদর্শিত হয়ে শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তার সামাজিক আচরণ সম্পাদন করে থাকে । একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক অবস্থা তার শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত করে । একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষকের কার্যকারিতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী সামাজিক অবস্থাগুলি হল – সহকর্মীদের সাথে ভাল সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ করা এবং কোন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করা, স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষকে সচেতনা ও শিক্ষা প্রদানে অংশগ্রহন করা ইত্যাদি ।

15. ভূগোল শিক্ষা ব্যবস্থায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষা ব্যবস্থায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন, যথাঃ i) নির্দেশদানকারী ভূমিকা (Instructional Role), ii) বিশেষ দক্ষতা সংক্রান্ত ভূমিকা (Faculty Role), iii) ব্যক্তিগত ভূমিকা (Individual Role) এবং iv) প্রশাসকের ভূমিকা (Administrator Role) ইত্যাদি ।

16. নির্দেশদানকারী ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কার্যাবলী কেমন ?
উঃ নির্দেশদানকারী হিসাবে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা যেসমস্ত কার্যাবলী সম্পাদন করেন সেগুলি হলঃ i) কোর্স পরিকল্পনা ও সংগঠন । ii) শিখন উপযোগী কাম্য দলগত পরিবেশ তৈরি এবং বজায় রাখা । iii) প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ এবং নির্দেশনা পদ্ধতি অবলম্বন করা । iv) শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদান করা এবং সমস্যার মুখোমুখি করে তা সমাধানে সহায়তা করা । v) সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের সামঞ্জস্য বজায় রেখে শিখন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ঘটানো । vi) শ্রেণি উপযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা ইত্যাদি ।

17. শিক্ষণ সংঘটনে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার জটিল কার্যাবলীগুলি কিকি ?
উঃ শিক্ষণ সংঘটনে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার জটিল কার্যাবলীগুলি হলঃ i) তথ্য এবং তত্ব, ধারণা, কৌশল ইত্যাদি সরবরাহ করা । ii) কোন বিষয়বস্তুকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বোধ জাগ্রত করা । iii) কোন সমস্যার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যখ্যা করে প্রদর্শন করা । iv) শিক্ষার্থীদের কোন প্রজেক্টে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং প্রজেক্ট চলাকালিন শিক্ষার্থীদের দুর্বল দিকগুলি বুঝিয়ে দেওয়া । v) শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতার উপর নিয়মিত নজর রাখা ও তার মূল্যায়ন করা ইত্যাদি ।

18. বিশেষ দক্ষতা সংক্রান্ত ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কার্যাবলী কেমন ?
উঃ বিশেষ দক্ষতা সংক্রান্ত ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা তাদের কার্যাবলী হিসাবে i) পাঠক্রম কমিটি, প্রশ্নপত্র তৈরির কমিটি ইত্যাদি তে যুক্ত থাকতে পারেন । ii) শিক্ষার্থীদের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেন । iii) গবেষণার কাজে নিযুক্ত থাকতে পারেন । iii) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোন সংস্থার সাথে Resources Person হিসাবে যুক্ত থাকতে পারেন ইত্যাদি ।

19. ব্যক্তিগত ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কার্যাবলী কেমন ?
উঃ ব্যক্তিগত ভূমিকায় অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকার মতো ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকারও কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য দুই ধরনের ভূমিকা রয়েছে, যথাঃ ব্যক্তিগত ভূমিকা এবং শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা ।
ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষক/শিক্ষিকা একজন সামাজিক সম্পদ । সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্রিয়াশীল এবং প্রচ্ছন্নভাবে প্রত্যেকটি সামাজিক কার্যাবলীকে প্রভাবিত করতে সক্ষম । অন্যদিকে একজন শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে শিক্ষার্থীকে আদর্শ পথে পরিচালনা করা এবং প্রয়োজনীয় শিখন বিষয়বস্তু সরবরাহ করা প্রধান কাজ ।

20. প্রশাসকের ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কার্যাবলী কেমন ?
উঃ প্রশাসকের ভূমিকায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কার্যাবলীগুলি হলঃ i) শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রকৃতি নিয়মিত নথিভুক্ত করা । ii) শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বিধান করা । iii) সময় সারণী পরিকল্পনা ও অনুশীলন করা । iv) সমস্ত শিক্ষামূলক সভায় অংশ নেওয়া এবং অবদানরাখা ইত্যাদি ।

21. ভূগোল শিক্ষণ এ শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকাগুলি কিকি হতে পারে ?
উঃ ভূগোল শিক্ষণ এ একজন শিক্ষক/শিক্ষিকা বিভিন্ন বিষয়ে তার ভূমিকা সম্পাদন করে থাকেন, এর কয়েকটি রুপ হলঃ i) ভূগোল শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, ii) ক্রমান্বয়ে পাঠ্য বিষয় সঞ্চালন, iii) আনুষঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন, iv) শিখন উপকরণ ব্যবহার, v) শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ, vi) পাঠ্যক্রম ক্রম সম্পাদন, vii) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী সম্পাদন, viii) প্রযুক্তির ব্যবহার, ix) পরিবেশ সচেতনতার বিকাশ, x) ভবিষৎ দিক নির্দেশ ইত্যাদি ।

22. ভূগোল শ্রেণিকক্ষ পরিচালনায় শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কি ?
উঃ ভূগোল শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষেত্র । ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যে যাতে আলোচ্য বিষয়বস্তু একইরকমভাবে বোধগম্য হয় সে দিকটি খেয়াল রাখতে হবে । শ্রেণিকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভূগোলের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করার কাজটি সুকৌশলে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে চালিয়ে যেতে হবে ।

23. ক্রমান্বয়ে পাঠ্য বিষয় সঞ্চালনে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ ?
উঃ ভূগোল একটি আন্তঃসাংশ্লেষিক বিষয় তাই ধাপে ধাপে এগিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে ও মনে রাখতে সুবিধা হয় । বিদ্যালয় স্তরে ভূগোলে প্রাকৃতিক ভূগোল, আঞ্চলিক ভূগোল, সাংস্কৃতিক ভূগোল মূলত এই তিনটি দিক আলোচনা করা হয় । এক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয় কারন প্রাকৃতিক ভূগোল ও আঞ্চলিক ভূগোলের বিষয়বস্তু এক নয় তাই একটি একটি বিষয় আলোচনা করলে পরের বিষয়টি সম্পর্কে শিখন জ্ঞান সঞ্চালিত হয় । এছাড়া সহজ থেকে কঠিন, মূর্ত থেকে বিমূর্ত বিষয়ের প্রতি পাঠ্য বিষয় সঞ্চালন একান্তই কাম্য ।

24. বিষয়ের আলোচনায় আনুষঙ্গিক বিষয় উপস্থাপনে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ ভূগোল একটি জটিল এবং পরিবর্তনশীল বিষয় । এখানে প্রাকৃতিক, আঞ্চলিক বা সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো সর্বদা বিবর্তিত হয়ে চলেছে । তাই কোন বিষয়ের আলোচনাকালে বিষয়টিকে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপনের জন্য উদাহরণ হিসাবে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন করা বাঞ্ছনীয় । আনুষঙ্গিক বিষয় বা উদাহরণ উপস্থাপনে শিক্ষককে সতর্ক থাকতে হবে এবং উদাহরণটিকে মূর্ত করে উপস্থাপন করতে হবে । এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় থেকে উদাহরণ তুলে ধরে আলোচনা করা হলে তা শিক্ষার্থীদের মনে দাগ কাটে । যেমনঃ ভুপাল গ্যাস দুর্ঘটনা সমন্ধে আলোচনার আগে যদি সাম্প্রতিক কালের (07/05/2020) ভাইজাগ গ্যাস দুর্ঘটনা বিষয়টি উপস্থাপন করা হয় তাহলে ভুপাল গ্যাস দুর্ঘটনার প্রকৃতি ও ভয়াভহতা সহজেই শিক্ষার্থী বুঝতে পারবে এবং বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হবে ।

25. ভূগোল শিখন উপকরণ ব্যবহারে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ ভূগোল শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় শিখন উপকরণ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ, এক্ষেত্রে মডেল, চার্ট, মানচিত্র, চিত্র, ভৌগোলিক যন্ত্র ইত্যাদি বহুবিধ উপকরণ ব্যবহার করা হয় । ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে এই সমস্ত উপকরণ ব্যবহারের পূর্বে কোন আলোচনায় কোন উপকরণ ব্যবহার করবেন তা আগে থেকে নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই উপকরণটি শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শন করে তার সমন্ধে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো আলোচনা করে বা উপকরণের কার্যাবলী সমন্ধে সাম্যক জ্ঞান সঞ্চারিত করে শিক্ষার্থীদের বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে হবে । যেমনঃ গ্লোব ব্যবহার করার পূর্বে গ্লোব সমন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে যে প্রসঙ্গে গ্লোব ব্যবহার করা হচ্ছে সেই মূল প্রসঙ্গের উপস্থাপন করতে পারলে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কাছে মূর্ত ভাবে উপস্থাপন করা সহজ হয়ে যায় ।

 





মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া টেট অনলাইন কোচিং

মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়ার তত্বাবধানে আরম্ভ হয়েছে সর্ব স্তরের টেট প্রস্তুতির অনলাইন কোচিং ॥

MGI পরিচালিত MGI TET ONLINE COACHING এর কোর্স গুলি হলঃ

⇓⇓

1. MGI PRIME TET ONLINE COACHING :-

নবম থেকে দ্বাদশ স্তরের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের টেট পরীক্ষার উপযোগী এই কোর্সটি । এখানে থাকছে TEACHING-LEARNING, BENGALI, ENGLISH, EVALUATION, GEOGRAPHY HISTORY & ENVIRONMENT STUDIES এর PEDAGOGY থেকে 100+ টপিকের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা এবং 30 টি মক টেস্ট ॥


2. MGI UPPER PRIMARY TET ONLINE COACHING :-

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম (উচ্চ প্রাথমিক) স্তরের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের টেট পরীক্ষার উপযোগী এই কোর্সটি । এখানে থাকছে CHILD PSYCHOLOGY, BENGALI, ENGLISH, SOCIAL STUDIES এর PEDAGOGY ও CONTENT থেকে 120+ টপিকের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা এবং 20 টি মক টেস্ট ॥


&


3. MGI PRIMARY TET ONLINE COACHING :-

প্রথম থেকে পঞ্চম (প্রাথমিক) স্তরের টেট পরীক্ষার উপযোগী এই কোর্সটি । এখানে থাকছে CHILD PSYCHOLOGY, BENGALI, ENGLISH, MATHEMATICS & ENVIRONMENT STUDIES এর PEDAGOGY ও CONTENT থেকে 120+ টপিকের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা এবং 20 টি মক টেস্ট ॥

আরো বিশদে জানতে যোগাযোগ করুনঃ 8640890159 নম্বরে ॥





26. ভূগোল বিষয়ে শিক্ষা প্রদানে শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ শিক্ষণ পদ্ধতির অবলম্বন ভূগোল বিষয়ের শিখন-শিক্ষণকে প্রভাবিত করে । ভূগোলের আলোচনায় আঞ্চলিক পদ্ধতি, আরোহ-অবরোহ পদ্ধতি, বক্তৃতা পদ্ধতি, গল্প পদ্ধতি, পরীক্ষাগার পদ্ধতি ইত্যাদি অনুসরণ করা হয় । কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী এই পদ্ধতিগুলিকে ব্যবহার করাই ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ । পদ্ধতিগুলি শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র নয় আবার একটি পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে যাওয়াও সহজসাধ্য নয় । তাই কোন বিষয় সমন্ধে আলোচনার পূর্বে শিক্ষক/শিক্ষিকা কোন অংশে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন এবং কিভাবে এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে সঞ্চালিত করবেন তা আগেই নির্ধারণ করতে হবে ।

27. পাঠ্যক্রম ক্রম সম্পাদনে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ পাঠ্যক্রম কোন বিষয়ের পাঠ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা । বর্তমানে পাঠ্য পুস্তকে শিক্ষানিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা এই রূপরেখা নির্দেশিত থাকে । কোন পাঠ্য বিষয়ের পিরিয়ড সংখ্যা, দিন সংখ্যা সময় ইত্যাদি অনুসারে শিক্ষক/শিক্ষিকা বিষয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যায় । এক্ষেত্রে শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে প্রধান ভূমিকা হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রমান্বয়ে পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে একক (Unit) গুলির আলোচনা সমাপ্ত করা । এছাড়া বিভিন্ন অভিক্ষার পূর্বে সেই অভিক্ষার সংশ্লিষ্ট পাঠ্য এককগুলিকে নিখুঁতভাবে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা ।

28. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর সহযোগী হিসাবে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ শিক্ষা ব্যবস্থায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী বেশ গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষকরে ভূগোলের বিভিন্ন আলোচনায় এরুপ কার্যাবলী তাত্বিক আলোচনাকে মূর্ততা প্রদান করে । ভ্রমণ, প্রদর্শনী, ভূগোল মিউজিয়াম তৈরি, বিতর্কসভা ইত্যাদির আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে উৎসাহ প্রদান করতে হয় । ভ্রমণকালে শিক্ষক/শিক্ষিকা একজন আদর্শ গাইড এর কাজ করে থাকেন এবং ভৌগোলিক বিভিন্ন উপাদান সমন্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে তাত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন ।

29. প্রযুক্তির ব্যবহারে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ ভূগোলে প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যাপকতা রয়েছে । ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক, ভৌতিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, প্রকল্প রূপায়ন, জরিপ, উপগ্রহ চিত্র থেকে উপাত্ত সংগ্রহ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে । ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে এই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা, বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার প্রক্রিয়া ও কার্যাবলী ব্যখ্যা করা, কোন প্রকল্প রূপায়নে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা অন্যতম কাজ ।

30. পরিবেশ সচেতনতার বিকাশে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ শিক্ষার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হিসাবে পরিবেশ সচেতনতা ব্যাপকভাবে সমাদৃত । পরিবেশের বিভিন্ন দিক সমন্ধে আলোচনা করে মানুষ তথা জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশের গুরুত্ব সমন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করতে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন । এজন্য স্বতন্ত্রভাবে পরিবেশ ভূগোল বা পরিবেশ বিদ্যা বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ । একজন ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা পরিবেশের অবনমন, পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ইত্যাদি বিষয়ের কার্য-কারন সম্পর্ক উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতার বিকাশে সঠিক দিক নির্দেশ করতে পারেন ।

31. ভবিষৎ দিক নির্দেশকারী হিসাবে শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা কিরূপ হওয়া উচিৎ ?
উঃ যেকোনো শিক্ষার উৎপাদনমূলক দিকটি হল ভবিষৎ সুনিশ্চিত করা । শিক্ষার্থী যাতে ভবিষ্যতে নিজেকে উপযোগী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সে দিকটি সুনিশ্চিত করা শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য । ভূগোল শিক্ষার্থী যাতে ভবিষ্যতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয় অর্থাৎ ভবিষৎ দিক নির্দেশ করার ক্ষেত্রে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূমিকা অগ্রগণ্য । ভবিষ্যতে কোন কোন ক্ষেত্রে ভূগোল বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সামনে কাজের সুযোগ ঘটাবে সে দিকগুলো সমন্ধে ধারণা প্রদান করতে হবে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে । উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে ভূগোলের কোন শাখা পড়ানো হয় বা গবেষণার সুযোগ করে দেয় তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে শিক্ষক/শিক্ষিকাকে ।

32. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকাকে কোন কোন গুণের অধিকারী হতে হয় ?
উঃ একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার নিম্নলিখিত গুণাবলী থাকা জরুরি, যথাঃ
i) বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিবিড় জ্ঞান, ii) শিশু মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান, iii) পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও অনুসন্ধিৎসা, iv) শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কিত সাম্যক জ্ঞান, v) মানচিত্রগত জ্ঞান, vi) শিক্ষামূলক ভ্রমণের উৎসাহিতা, vii) আদর্শ উপস্থাপন ক্ষমতা, viii) দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি, ix) ভূগোল শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, x) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের দক্ষতা, xi) সমসাময়িক ঘটনাবলী ব্যখ্যা করার ক্ষমতা, xii) আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি, xiii) নেতৃত্ব ও পরামর্শ দানের সক্ষমতা, xiv) বিদ্যলয়ের সময়সারণী অনুসরণের দক্ষতা, xv) বিষয় অণুবন্ধনের জ্ঞান ইত্যাদি ।

33. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিবিড় জ্ঞান প্রয়োজন কেনো ?
উঃ ভূগোল একটি অতি বিস্তৃত বিষয় । পার্থিব বিভিন্ন বিষয় যেমন ভূতত্ব, প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ সংক্রান্ত ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সাথে সাথে মহাবিশ্ব, সৌরজগত ইত্যাদির আলোচনাও এতে অন্তর্গত । এই আলোচনাক্ষেত্র ভূগোলের জটিলতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে । এই জটিলতা দুর করে স্বাভাবিক ও সহজ সরল ভাবে কোন ভৌগোলিক আলোচনা শিক্ষার্থীদের সমক্ষে উপস্থাপনের জন্য ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বিষয় সমন্ধে স্বচ্ছ ও নিবিড় জ্ঞান থাকা প্রয়োজন । বিষয়ে স্বচ্ছ জ্ঞান যেমন আলোচনার ক্ষেত্রকে মসৃণ করে তেমনি নিবিড় জ্ঞান আলোচ্য বিষয়ের আনুষঙ্গিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সহায়তা করে ।

34. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার শিশু মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন কেনো ?
উঃ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হল শিশু কেন্দ্রীকতা । অর্থাৎ শিশুর বয়স, বোধ, ধারণ ক্ষমতার উপযোগী করে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে শিক্ষা প্রদান করা । শিশুর চাহিদা, বোধক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রাক্ষোভিক আচরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো শিশু মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের অন্তর্গত হওয়ায় এর জ্ঞান ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার মধ্যে না থাকলে যথাযথ শিখন সঞ্চালন সম্ভব নয় । তাই একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার শিশু মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন ।

35. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার স্বাপেক্ষে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও অনুসন্ধিৎসা বলতে কি বোঝায় ?
উঃ বিষয় হিসাবে ভূগোল একমাত্র বিষয় যা ‘প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে’র উপর ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছে । বিভিন্ন ভৌগোলিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ নির্ভর । পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও অনুসন্ধিৎসা ছাড়া ভূগোলের বিষয়গুলির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা মুশকিল । তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ভৌগোলিক বিষয়ের ঘটনাপরম্পরা, ঘটনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য যথার্থভাবে সঞ্চালনের জন্য ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকাকে আগে পর্যবেক্ষণ এ দক্ষ হতে হবে ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব সম্পন্ন হতে হবে । শিক্ষক/শিক্ষিকা অনুসন্ধিৎসু মনোভাব সম্পন্ন না হলে ভূগোলের নিত্যনতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষার্থী বঞ্চিত হবে ।

36. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কিত সাম্যক জ্ঞান প্রয়োজন কেনো ?
উঃ শিক্ষণ পদ্ধতি হল শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষণীয় বিষয়কে মূর্ত উপস্থাপনের কৌশল । ভূগোল বিষয় অন্য নানা বিষয়ে জড়িত থাকায় এর আলোচনায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় । কোন শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে সাম্যক জ্ঞান না থাকলে আলোচনার ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হয় বা আলোচনা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন সম্ভব হয় না । আবার ভূগোলে আলোচনা চলাকালীন এক শিক্ষণ পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতি অবলম্বনও স্বাভাবিক তাই এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কাজটি জটিল হবে বা আলোচনা তার ভারকেন্দ্র হারাবে ।

37.একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার মানচিত্রগত জ্ঞান থাকা আবশ্যক কেনো ?
উঃ মানচিত্র ভূগোলের আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু । মানচিত্রে কিছু সঙ্কেত, রেখা, চিহ্ন ইত্যাদি দ্বারা একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা যায় । তাই একজন শিক্ষক/শিক্ষিকার সুস্পষ্টভাবে মানচিত্রগত জ্ঞান না থাকলে ঐসব সঙ্কেত, রেখা, চিহ্ন ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে বোঝানো মুশকিল । মানচিত্র অঙ্কন, মানচিত্র পাঠ এবং ব্যখ্যাকরণ ভূগোলের প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । এগুলির পারদর্শিতা একজন ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার মধ্যে না থাকলে বিষয়ের আলোচনা প্রাসঙ্গিকতা হারায় ।

38.একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার শিক্ষামূলক ভ্রমণের উৎসাহিতা থাকা আবশ্যক কেনো ?
উঃ শিক্ষামূলক ভ্রমণ শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখতে সাহায্য করে এবং শ্রেণিকক্ষে আলোচিত তাত্বিক বিভিন্ন বিষয়ের মূর্ত উদাহরণ দেখতে পায় তাই ভূগোল শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষামূলক ভ্রমণের গুরুত্ব অধিক । শিক্ষামূলক ভ্রমণের ক্ষেত্রে শিক্ষক/শিক্ষিকাই শিক্ষার্থীদের গাইড হিসাবে কাজ করে । শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ছোটছোট দলের তথ্য সংগ্রহ, স্পেসিমেন সংগ্রহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা যেমন উৎসাহ দেয় তেমনি বিভিন্ন কার্যকারণ পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেন । তাই যদি ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার শিক্ষামূলক ভ্রমণের উৎসাহ না থাকে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী তাদের সঠিক গাইড নাও পেতে পারে ।

39.একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার আদর্শ উপস্থাপন ক্ষমতা প্রয়োজন কেনো ?
উঃ উপস্থাপন ক্ষমতা কোন বিষয় আলোচনার অন্যতম আধার । উপযুক্ত উদাহরণ, স্পষ্ট উচ্চারণ, কোনরকম বাতিকগ্রস্ততা ছাড়া সাবলীল আলোচনা উপস্থাপন ক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করে । তাই একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার উপস্থাপন ক্ষমতা অতি প্রয়োজনীয় । শিক্ষক/শিক্ষিকার উপস্থাপন ক্ষমতার দুর্বলতা শিক্ষার্থীর কাছে বিরক্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে আবার শিক্ষার্থীর ধৈর্য চ্যুতিও ঘটে ।

40. দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকাকে সহায়তা করে ?
উঃ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভূগোল বিকাশের একটি স্তম্ভ । প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত পর্যাক্রমে বিভিন্ন দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভূগোলকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে । ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার মধ্যে এই দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে একদিকে যেমন ভূগোলের বিবর্তন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে অক্ষম হবেন তেমনি বর্তমান ভূগোলের বিষয়বস্তুর মধ্যে সুপ্ত দর্শন উপলব্ধি করাতেও সমস্যার সম্মুখীন হবে । দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ের গভীরে গিয়ে চিন্তা করতে এবং তার আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ের উপলব্ধিতে শিখন-শিক্ষণ এর অন্যতম উপাদান ।

41. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার ভূগোল শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজনীয় কেনো ?
উঃ যেকোন শিক্ষার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়া গুরুত্ব হারায় । শিক্ষক/শিক্ষিকা যদি তাদের শিক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত না থাকেন তাহলে তাহলে শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে পরিচালনা করা অসম্ভব । ভূগোলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না । শিক্ষার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত করতে সহায়তা করা এবং সমস্ত প্রকার মানবীয় গুণাবলীর বিকাশের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা । একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা এই দিকগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন না ।

42. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের দক্ষতা কেনো প্রয়োজন ।
উঃ ভূগোলকে বিজ্ঞানের জননী হিসাবে অভিহিত করা হয় । ভূগোলের প্রতিটি শাখায় বিভিন্ন ধরনের মডেল, তত্ব, পরিসংখ্যান, সূত্র ইত্যাদি প্রয়োগের ক্ষেত্র রয়েছে । ভূগোলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনাবলীর বর্ণনায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে, জনসংখ্যা সমন্ধে আলোচনায়, কৃষি থেকে অন্যান্য উৎপাদনমূলক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক মডেল, সূত্র,তত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করা হয় । এই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলি অনুসরণে দক্ষ না হলে শিক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ রুপ পায় না । তাই একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের দক্ষতা থাকা একান্তই প্রয়োজন ।

43. সমসাময়িক ঘটনাবলী ব্যখ্যা করার ক্ষমতা একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকাকে কিভাবে সহায়তা করে ?
উঃ ভূগোলে বলা হয় ‘বর্তমান অতীতের চাবিকাঠি’ । আবার সমসাময়িক ঘটনাবলী ব্যখ্যা করা ভূগোলের চালিকাশক্তি । সমসাময়িক ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে তার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ধারণ করে পরিবেশের উপর তার প্রভাবগত দিক তুলে ধরা ভূগোল আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য । অতীতের ভৌগোলিক ঘটনাবলী থেকে অর্জিত জ্ঞান বর্তমান ভৌগোলিক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বিষয়টি সম্পর্কে অধ্যয়ন করা যেমন সম্ভব তেমনি বর্তমান ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে ও তা বিশ্লেষণ করে অতীতের কোন ঘটনার ব্যখ্যাও সম্ভব । অর্থাৎ সমসাময়িক ঘটনাবলী ব্যখ্যা করার মাধ্যমে অতীত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটে, ফলে ভূগোলের প্রবাহমানতা বজায় থাকে । তাই বলা যায় একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার অন্যতম বড়ো গুণ হল সমসাময়িক ঘটনাবলী ব্যখ্যা করার ক্ষমতা ।

44. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার প্রয়োজনীয়তা কি ?
উঃ ভূগোল শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় । পৃথিবী ব্যাপী প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হল ভূগোল । পৃথিবীর বিভিন্ন ক্ষেত্রের জলবায়ুগত প্রভাব, সম্পদের বণ্টন, সংস্কৃতির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক সমীকরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো ভূগোলে আলোচনা করা হয় । ফলে একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা হিসাবে শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে ভূগোলের পাঠ প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয় ।

45. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার নেতৃত্ব ও পরামর্শ দানের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন কেন ?
উঃ যেকোনো বিষয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ নেতৃত্ব ও পরামর্শদাতা । ভূগোল বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের ভৌগোলিক কার্যাবলী সম্পাদন যথা – প্রকল্প নির্মান, মডেল তৈরি, আলোচনাসভার আয়োজন, ভৌগোলিক ঘটনাবলীর বর্ণনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে । এক্ষেত্রে দুর্বল নেতৃত্ব এবং পরামর্শদাতা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে বাধা স্বরূপ তাই একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার নেতৃত্ব ও পরামর্শ দানের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন ।

46. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বিদ্যলয়ের সময়সারণী অনুসরণের দক্ষতা প্রয়োজন কেন ?
উঃ বিদ্যলয়ের সময়সারণী অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা করে পাঠ্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় । এক একটি অধ্যায় আলোচনার জন্য পূর্ব নির্দিষ্ট সময়সূচি, পিরিয়ড সংখ্যা, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বাৎসরিক মূল্যায়ন সময় অনুসারে বিদ্যালয়ের সময়সারণী প্রস্তুত করা হয় । তাই সময়মত সিলেবাস শেষ করা, প্রয়োজনে পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয়গুলো সুষ্ঠ ভাবে সম্পাদনের জন্য প্রত্যেক আদর্শ শিক্ষক/শিক্ষিকার মতো ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকাকেও বিদ্যলয়ের সময়সারণী অনুসরণের দক্ষ হতে হবে ।

47. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বিষয় অণুবন্ধনের জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয় কেন ?
উঃ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা দানের অন্যতম নীতি হল ‘অনুবন্ধনের নীতি’ । এই নীতি অনুযায়ী বলা হয় পৃথক পৃথক বিষয়ের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে । এবং বিষয়গুলোর এই অন্তঃসম্পর্ক উপেক্ষা করে কোন বিষয়ের একক আদর্শ জ্ঞান সঞ্চালন সম্ভব নয় । ভূগোলের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কলা, দর্শন, ইতিহাস ইত্যাদির সম্পর্ক তো স্বাভাবিক ভাবেই দৃশ্যমান । তাই আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় সমন্ধে সাধারণ জ্ঞান না থাকলে ভূগোলের শিক্ষণ যথার্থভাবে সম্ভব নয় । তাই একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার বিষয় অণুবন্ধনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক ।

48. Methodology Expert হিসাবে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেন ?
উঃ Methodology Expert হিসাবে ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা – i) বিভিন্ন ধরনের মেথড, ii) পাঠ পরিকল্পনা, ইউনিট পরিকল্পনা ও বাৎসরিক পরিকল্পনা; iii) মূল্যায়ন পদ্ধতি, iv) ভূগোলের বহুমুখী উদ্দেশ্য সাধন, v) ভূগোলের কার্যাবলী সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেন ।



ইবুক নাম :- ভৌগোলিক সালানুক্রম

উপাদান :- 2400 + ভৌগোলিক সালের সংকলন 

কাজে লাগবে :- যেকোনো স্তরের ভূগোল শিক্ষার্থীদের 

প্রকাশক :- মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া 

ভৌগোলিক সালানুক্রম ইবুকটি সংগ্রহের জন্য কভার পেজ টি স্পর্শ করুনঃ

⇓⇓



 

49. ভূগোলের আলোচনায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার কয় প্রকার জ্ঞানের সম্মিলন ঘটে ?
উঃ ভূগোলের আলোচনায় ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার তিন প্রকার জ্ঞানের সম্মিলন ঘটে বলে Lambert (2011) উল্লেখ করেন, যথাঃ i) মূল জ্ঞান (Core Knowledge), ii) বিষয়বস্তুগত জ্ঞান (Content Knowledge) এবং iii) পদ্ধতিগত জ্ঞান (Procedural Knowledge) ইত্যাদি ।

50. একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা কেন Refresher Course করেন ?
উঃ একজন আদর্শ শিক্ষকের উচিৎ তাঁর কাজের ক্ষেত্রে কোন কোন দিকের পদ্ধতিগত বিকাশ ঘটছে তা সম্পর্কে অবগত হওয়া । তাই সর্বাধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা, ভূগোলের আধুনিক জ্ঞান, ধারণা সম্পর্কে অবগতি, নতুন নতুন মডেল, তত্ব, সূত্র ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা বিকাশের জন্য একজন আদর্শ ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকা Refresher Course করে থাকেন ।

© গোপাল মণ্ডল (সহকারী সম্পাদক মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া)

সমগ্র পোস্ট টি পাড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই ।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!