মৃত্তিকা পরিলেখ এবং প্রকার ॥ Soil Profil and Types

 

Soil Profile, Zonal, Introzonal & Azonal Soil 

 

  • মৃত্তিকার আদর্শ পরিলেখ :-

 

  • সংজ্ঞা :-অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট পরিণত বা আদর্শ মাটির পৃষ্ঠ দেশ থেকে নীচে মূল বা আদি শিলা পর্যন্ত লম্বচ্ছেদ করলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কয়েকটি স্তর গড়ে ওঠার চিত্র ধরাপড়ে, একে মৃত্তিকা পরিলেখ বলে l প্রখ্যাত মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ভি.ভি.ডকুচায়েভ এঁর ধারণা থেকে Soil Profile এর কথা জানা যায় l একটি পরিণত মৃত্তিকার স্তরায়নে A,B,C এই তিনটি স্তর বিদ্যমান l
  • মৃত্তিকা পরিলেখের বিভাজন :- একটি আদর্শ মৃত্তিকার পরিলেখকে প্রধান তিনটি এবং কয়েকটি উপ স্তরে ভাগ করা যায়, এগুল হল –
  1. A.Horizon :- মৃত্তিকা পরিলেখের সর্ব প্রথম স্তর হল ‘A’ স্তর l স্তরটি হিউমাস সমৃদ্ধ একটি খনিজ স্তর l অনুস্রবনের মাধ্যমে দ্রাব্য লবণ, কর্দম, লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম এই স্তর থেকে অপসৃত হওয়ায় একে ধৌত স্তর ও বলাহয় l এই স্তরকে কয়েকটি উপ স্তরে ভাগ করা যায়,যথা –
  2. AOO Layer :- এটি সর্বোচ্চ স্তর l স্তরটি প্রধানতঃ সদ্য সংযোজিত মৃত জৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত l সাধারণত বনাঞ্চলের মাটিতে এবং নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এই স্তরটি দেখা যায় l এর গভীরতা মাত্র 1-2 ইঞ্চি হয় l
  3. AO Layer :- ‘AOO’ উপ স্তরের নীচে অবস্থিত আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্লেষিত জৈব পদার্থ দ্বারা গঠিত স্তরটিকে ‘AO’ স্তর বলে l স্তরটির নিম্ন দিকে সম্পূর্ণ ভাবে পঁচে যাওয়া জৈব পদার্থের সঞ্চয় দেখা যায় l বনাঞ্চলের মাটিতে এই বিশ্লেষিত জৈব পদার্থের স্তরটিকে ‘H’ স্তর নামেও অভিহিত করা হয় l সরল বর্গীয় অরণ্যে একে Duff এবং শক্ত কাঠের পর্ণমোচি অরণ্যে Mull বলা হয় l
  4. A1 Layer :- কালো বর্ণের জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ পুরু খনিজ-মৃত্তিকার স্তর হল এটি l স্তরটি হিউমিক স্তর নামেও অভিহিত l জৈব ও ধাতব পদার্থের সমন্বয়ে স্তরটি গঠিত l পডজল মাটিতে এই স্তরের গভীরতা কম কিন্তু চার্ণোজেম মাটিতে অধিক l
  5. A2 Layer :- A1 স্তরের নীচে অবস্থিত সম্পূর্ণ ভাবে খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ,বড় দানার বালুকার প্রধান্য যুক্ত এবং সামান্য জৈব পদার্থ যুক্ত হালকা বর্ণের স্তর হল A2 স্তর l পডজল মাটিতে এই স্তর লক্ষ্যনীয় l অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে খনিজ ও জৈব পদার্থ গুলি এই স্তর থেকে দ্রুত অপসারিত হয় l
  6. A3 Layer :- A ও B স্তর এর মাঝে অবস্থিত A স্তরের বৈশিষ্ট সমৃদ্ধ কিন্ত B স্তর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট যুক্ত স্তর হল এটি l
  7. B.Horizon :- A হরাইজনের নিম্নে স্থিত খনিজ সমৃদ্ধ স্তরকে B হরাইজন বলে l A হরাইজন থেকে ধৌত পদার্থ B হরাইজনে এসে সঞ্চিত হয়,তাই একে সঞ্চয়ন বা ইলুভিয়াল স্তরও বলে l এই স্তরটিকে কয়েকটি উপ স্তরে ভাগ করা যায়,যথা –
  8. B1 Layer :- A হরাইজন ও B হরাইজন এর মধ্যে অবস্থিত B হরাইজনের বৈশিষ্ট সমৃদ্ধ কিন্তু A হরাইজন থেকে সতন্ত্র বৈশিষ্ট যুক্ত স্তর কে B1 স্তর বলে l A হরাইজন থেকে বাহিত হিউমাস, লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম এই স্তরে দেখা যায় l সব মাটিতে এই স্তর থাকে না l
  9. B2 Layer :- B1 স্তরের নিম্নে অবস্থিত উপরিস্থ স্তর গুলি থেকে অধিক মাত্রায় আগত কাদা কণা লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড, হাইড্রো অক্সাইড, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ গাঢ় রঙের স্তরটিকে B2 স্তর বলে l স্তেপ অঞ্চলের মৃত্তিকায় এই স্তরে কার্বনেটের সঞ্চয় ঘটে l পডজল মৃত্তিকায় কর্দমকণা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম এবং হাইড্রাস অক্সাইড জমা হয়ে Hard Pan গঠণ করে l
  10. B3 Layer :- B2 স্তরের নিম্নে B ও C হরাইজনের মধ্যবর্তী স্তর হল এটি যার বৈশিষ্ট B ও C হরাইজনের সন্মিলিত l B2 স্তরের সঞ্চয়ন অনেক সময় এই স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায় l তবে প্রতিটি মাটিতে এই স্তর দেখা যায় না l
  11. C.Horizon :- B হরাইজনের নিম্নে এবং মূল শিলার ওপরে আবহবিকারের ফলে উত্পন্ন বিভিণ্ন আকৃতির পাথরের টুকরো দ্বারা গঠিত অংশ হল C হরাইজন l জীবাণু বা অন্য কোন বিষয়ের প্রভাব এই স্তরে অনুপস্থিত এবং জৈবিক ক্রিয়া গুলি তেমন সক্রিয় নয় l কাঁকর বা অন্যান্য কণার প্রলেপ রুপে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যৌগের সঞ্চয় এই স্তরে দেখা যায় l
  12. R.Horizon :- ‘R’ হরাইজন প্রকৃত পক্ষে অবিকৃত আদি ভূমি-শিলা কে নির্দেশ করে l
  13. D.Horizon :- শিলা মৃত্তিকা গঠণ প্রকৃয়ায় উত্পন্ন অপরিবর্তিত স্তর এটি l পিট ও বগ মৃত্তিকায় একটি বিশেষ মৃত্তিকা স্তর রুপে একে চিন্হিত করা হয় ‘L’ দ্বারা l

 

 

⏹ আঞ্চলিক মৃত্তিকা (Zonal Soil):-

সংজ্ঞা (Definition):- পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে নির্দিষ্ট আদি শিলা,একই স্বভাবিক উদ্ভিদ, সঠিক জলবায়ুর সাথে সম্পর্কিত দীর্ঘ দিনের ব্যবধানে নবীন থেকে পরিণত অবস্থায় বিবর্তনের সব ধাপ পেরিয়ে সুপরিলেখ যুক্ত একই বৈশিষ্ট সম্পন্ন পরিণত ও বিকশিত মৃত্তিকা কে আঞ্চলিক মৃত্তিকা বলে l Depertment Of Agriculture Soil Classification – 1943 America. এই পদ্ধতি গৃহীত হয় l

বিভাগ (Classification):- আঞ্চলিক মৃত্তিকাকে প্রধান দুটি ও কয়েকটি উপ বিভাগে ভাগ করা যায়, যথা –1.Pedalfar Soil :-ইহা চার প্রকারের যথা –(i)সুমেরু দেশীয়, (ii)নাতিশীতোষ্ণ,(iii)ক্রান্তীয় এবং (iv)সীমান্তবর্তী l 2.Pedocal :- ইহা দুই ভাগে বিভক্ত যথা, (i)নাতিশীতোষ্ণ ও (ii)ক্রান্তীয় l

পৃথিবীর কয়েকটি প্রধান আঞ্চলিক মৃত্তিকার বর্ণনা :- আঞ্চলিক মাটিকে 20 টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে(1918),এগুলি হল –

1.মরুভূমির মাটি, 2. সিরোজেম মাটি,

3.বাদামী মাটি, 4. চেষ্টনাট মাটি,

5. চার্নোজেম মাটি, 6. লাল মরু মাটি,

7. লালচে বাদামী মাটি, 8.লালচে চেষ্টনাট মাটি,

9. ব্রুনিজেম মাটি, 10.লালচে প্রেইরী মাটি,

11. ডিগ্রেডেড চার্নোজেম মাটি, 12.নন-ক্যালসিক বাদামী মাটি,

13. তুন্দ্রা মাটি, 14. পডজল মাটি,

15. বাদামী পডজল মাটি, 16. ধূসর-বাদামী পডজল মাটি, 17. লাল-হলদে পডজল মাটি, 18.ধূসর কাষ্ঠ মাটি,

19. ল্যাটোসোল মাটি, 20. ল্যাটেরাইটিক মাটি ইত্যাদি l এদের 5 টি সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হল –

    1. Podsol Soil :- আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ বা উপক্রান্তীয় অঞ্চলের সরল বর্গীয় বনাঞ্চলের ছাই বা ধূসর রঙের পেডালফার শ্রেণী ভুক্ত আঞ্চলিক মাটি হল পডজল l রুশ শব্দ ‘Pod’ = ‘নিম্ন’ এবং ‘Zola’ = ধূসর’ থেকে ‘Podsol’ শব্দটির উত্পত্তি l
  1. অবস্থান(Location) :- পডজল মাটি উত্তর গোলার্ধের 50o -70o অক্ষাংশে (i) সাইবেরিয়ার তৈগা,(ii) নরওয়ে, সুইডেনে, ফিনল্যান্ডের সরল বর্গীয় বনভূমি ; (iii)উঃ আমেরিকার কানাডা,আলাস্কা, যুক্তরাষ্টের রকি পার্বত্যাঞ্চল; (iv) ইউরেশিয়ার বিস্তীর্ণ উত্তরাংশ ও ভারতের হিমালয় সরল বর্গীয় বনভূমি এবং (v) দক্ষিণ গোলার্ধের নিউজিল্যান্ডে বিকশিত হয়েছে l
  2. বৈশিষ্ট(Characteristic) :- পডজল মাটির প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট হল –(i) আঞ্চলিক মাটি হওয়ায় পরিলেখ গুলি সুস্পষ্ট ও পরিণত l (ii) অ্যাসিডের উপস্থিতির জন্য এই মাটি অনুর্বর প্রকৃতির l (iii) মাটির রঙ ছাই বাদামী থেকে ধূসর l (iv) সার প্রয়োগ করে এই মাটিতে শাকসবজি চাষ করা যায় l (v) মাটির ‘A’ স্তরের উপরের বর্জ্য পদার্থ সমৃদ্ধ স্তরকে Buff বা Mull বলে l (vi) পডজোলাইজেসন প্রক্রিয়ায় ইহা গঠিত হয় l
  3. বিভাজন(Classification) :- আদর্শ পডজল মাটি ছাড়াও কাছাকাছি বৈশিষ্ট সমৃদ্ধ কিছু স্থানিক পডজল জাতীয় মাটি দেখা যায়, যথা – (i)পিট পডজল :-জল বা সদ্য তৈরি জলা অঞ্চলের মাটি l

(ii) মিডো পডজল :- বনাঞ্চলের মধ্যস্থ তৃণভূমির পুকুর,হ্রদ বা জলভাগের মাটি l

(iii) গ্লে পডজল :- ভৌম জলস্তর ওঠানামার ফলে ‘A’ স্তরের নিম্নে সৃষ্ট সাদা বা ধূসর রঙের মাটি l

  1. ভৌগলিক অবস্থা(Geographical Condition) :- (i)জলবায়ু :- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং শীতল মেরু ও সামুদ্রিক জলবায়ু পডজল মাটি গঠনের আদর্শ ; উষ্ণতা বাত্সরিক 3.6o C এবং বৃষ্টিপাত 500-700মিলিমিটার l

(ii) সাভাবিক উদ্ভিদ :- সাধারণত সরল বর্গীয় (পাইন,হেমলক, হিথ, স্প্রুস) গাছের বনভূমি অঞ্চল আদর্শ l

(iii) ভূমিরুপ :- যেকোন ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশে এই মাটি গড়ে ওঠে l (iv) জনক শিলা :- কম ক্ষারকিয় উপাদান যুক্ত শিলা থেকে এই মাটি সৃষ্টি হয় বা এরুপ শিলা আদর্শ l

  1. Laterite Soil :- ক্রান্তীয় উষ্ণ-আর্দ্র বা নাতিশীতোষ্ণ আর্দ্র অঞ্চলের লাল বর্ণের অনুর্বর,লৌহ ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড সমৃদ্ধ একটি কুলীন আঞ্চলিক মাটি ল্যাটেরাইট l ল্যাটিন শব্দ ‘Later’ = ‘Brick’= ‘ইট’ থেকে এই শব্দের উত্পত্তি l l
  2. অবস্থান(Location) :- ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা পৃথিবীর উষ্ণ বৃষ্টি বহুল অঞ্চলে বা উষ্ণ-আর্দ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলে দেখা যায় l এশিয়ার ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি, ভিয়েতনাম,থাইল্যান্ড, লাওস, দঃ চীন ; মধ্য আফ্রিকা; মধ্য আমেরিকা ; মেক্সিকো ; অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাংশে ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা গড়ে উঠেছে l
  3. বৈশিষ্ট(Characteristic) :- (i)সাধারণ বৈশিষ্ট :– এর রং লাল l ল্যাটেরাইট মাটিতে জৈব পদার্থের দ্রুত বিয়োজন ঘটে l

(ii) ভৌত বৈশিষ্ট :– এই মাটি সাধারণত ভঙ্গুর প্রকৃতির, নমনীয়তা হীন এবং বেশী কাদা কণা যুক্ত l

(iii)রাসায়নিক বৈশিষ্ট :– এই মাটিতে ক্ষারীয় লবণের অভাব থাকে এবং অ্যালুমিনিয়াম,লৌহ, টাইটেনিয়াম ও সিলিকার পরিমাণ থাকে অধিক l

(iv)জৈব বৈশিষ্ট :– চিরহরিত্ ও পর্ণমোচী গাছের বনভূমির আধার l

  1. ভৌগলিক অবস্থা(Geographical Condition) :- ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা গঠনের অনুকূল ভৌগলিক অবস্থা গুলি হল –

(i) জলবায়ু :- ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা গঠনে উষ্ণআর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু; 20o-25o সেন্টিগ্রেড এর কম উষ্ণতা এবং 200-250সেমিঃ বৃষ্টিপাত আদর্শ l

(ii)জনক শিলা :- এই মৃত্তিকা গঠনে লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ,অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ক্ষার ধর্মী জনক বা আদি শিলা আদর্শ l

(iii)সাভাবিক উদ্ভিদ :- এই মৃত্তিকা অধিক পরিমাণে ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্য বা চিরহরিত্ অরণ্যে গড়ে উঠেছে l

(iv)ভূমিরুপ :- সাধারণত সমতল বা সামান্য ঢালের জমি ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা গঠনের আদর্শ ক্ষেত্র l

  1. Chernozem Soil :- মধ্য অক্ষাংশীয় নাতিশীতোষ্ণ তৃণ ভূমি অঞ্চলে যেখানে অর্ধ শুষ্ক থেকে আর্দ্র জলবায়ু রয়েছে সেখানে কালো বর্ণের সুবিকশিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ যে মাটি লক্ষ্য করা যায় তাকে চারনোজেম বলে l রুশ শব্দ ‘Charnozem’=’Black’ l
  2. অবস্থান(Location) :- চারনোজেম মৃত্তিকা উত্তর আমেরিকার 27 o-50 o N ; দঃ আমেরিকার 26 o-38 o S এবং 55 o-65 o W এ সর্বাধিক বিকশিত l এর স্থানিক বন্টন হল -ইউরোপের বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, রুমানিয়া ; এশিয়ার -চীন, দঃ রাশিয়া, মাঞ্জুরিয়া ; উঃ আমেরিকার ডাকোটা, কানসাস, টেক্সাস, ওকলাহোমা ; দঃ আমেরিকার পেরু, চিলি, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি স্থানে এই মৃত্তিকা উপস্থিত l
  3. বৈশিষ্ট(Characteristic) :- চারনোজেম মৃত্তিকার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট গুলি হল -(i)সূক্ষ গ্রথন যুক্ত এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ অধিক l (ii)আঞ্চলিক মৃত্তিকা,রং কালো l (iii)প্রচুর ফসল উত্পাদনকারী অত্যন্ত উর্বর মৃত্তিকা l (iv) ‘B’ স্তরে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় l
  4. ভৌগলিক অবস্থা(Geographical Condition) :- চারনোজেম মৃত্তিকা বিকাশের অনুকূল ভৌগলিক পরিবেশ গুলি হল –(i)জলবায়ু :- উপ-আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল এই মাটি বিকাশে আদর্শ l এরুপ মৃত্তিকা গঠনের অনুকূল উষ্ণতা -19o -25o C ,বৃষ্টিপাত 400-500 মিলিমিটার এবং আর্দ্রতা 70%-80% l

(ii)জনক শিলা :- লোয়েস বা চুন ময় অবক্ষেপের মাটি ইহা l এছাড়া ব্যাসল্ট,গ্রানাইট, চুনাপাথর গোত্রীয় শিলা থেকে সৃষ্টি হয় l

(iii) স্বভাবিক উদ্ভিদ :- লম্বা ও ছোট ঘাস সমৃদ্ধ তৃণভূমি অঞ্চলে চারনোজেম মাটি প্রধান l

(iv)ভূমিরুপ :- প্রায় সমতল বা তরঙ্গায়িত ভূমিরুপ এই মৃত্তিকার বিকাশে সহায়ক l

  1. Serozem Soil :- নাতিশীতোষ্ণ ঔ শীত প্রধান স্বল্প শুষ্ক অঞ্চলের বৃক্ষ বিরল মাটিতে জৈব পদার্থের স্বল্পতার জন্য মৃত্তিকার উপরাংশে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের আধিক্য যুক্ত ধূসর বর্ণের মৃত্তিকা কে সিরোজেম বলে l
  2. অবস্থান(Location) :- পৃথিবীর প্রধান সাতটি উষ্ণ মরু অঞ্চলে যথা -আফ্রিকার সাহারা,কালাহারী ; আরব মরুভূমি ; দঃ আমেরিকার আটাকামা ; যুক্তরাষ্টের সোনেরন ; ভারত-পাক এর থর ও বেলুচিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্য পশ্চিম মরুভূমি অঞ্চলে সিরোজেম মাটি সর্বাধিক বিকশিত l
  3. বৈশিষ্ট(Characteristic) :- (i)জৈব পদার্থ হীন কোয়ার্টজ পূর্ণ অনুর্বর প্রকৃতির মাটি সিরোজেম l (ii)মাটির রং হালকা তবে খনিজের বিভিন্নতার জন্য স্থানভেদে ধূসর, বাদামী বা পীত বর্ণের হয়ে থাকে l (iii)স্বল্প বৃষ্টিপাতের জন্য উপরিস্তরে লবণের ভাগ অধিক l
  4. ভৌগলিক অবস্থা(Geographical Condition) :- সিরোজেম মাটি গঠনের অনুকূল ভৌগলিক পরিবেশ হল –(i)জলবায়ু:- ক্রান্তীয় শুষ্ক মরু অঞ্চলে 45o C এর অধিক উষ্ণতা এবং বার্ষিক গড়ে 10-20সেমিঃ বৃষ্টিপাতের আনুকূল্যে সিরোজেম মাটি বিকশিত হয়েছে l

(ii) স্বাভাবিক উদ্ভিদ:- এই মৃত্তিকা মূলতঃ বিরল বা উদ্ভিদ শূন্য স্থানে বিকশিত হয় l

(iii)জনক শিলা:-সাধারণত কোয়ার্টজ পূর্ণ সিলিকা যুক্ত শিলা এই মৃত্তিকা সৃষ্টির জন্য দায়ী l

  1. Chest Nut /Brown Soil :- শুষ্ক প্রায় নাতিশীতোষ্ণ থেকে শীত প্রধান অঞ্চলে যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 35-75 সেমিঃ সেখানে অধিক মাত্রায় ধৌত প্রক্রিয়ার জন্য মৃত্তিকার উপরিভাগ থেকে ক্ষার জাতীয় দ্রবীভূত লবণ অপসারিত হয়ে বাদামী বর্ণের যে মৃত্তিকা গঠিত হয় তাকে চেষ্টনাট মৃত্তিকা বলে l
  2. অবস্থান(Location) :- চেষ্টনাট মৃত্তিকা এশিয়ার মধ্য ভাগ ; ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় তীরবর্তী অঞ্চল,মধ্য স্পেন,ভলগা,ক্যাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী অঞ্চল ; Daদঃ আমেরিকার পম্পাস তৃণভূমি অঞ্চল ; অস্ট্রেলিয়ার দঃ-পূর্বাংশে লক্ষ্য করা যায় l
  3. বৈশিষ্ট(Characteristic) :- (i)চেষ্টনাট মৃত্তিকায় খনিজ পদার্থ সিরোজেম অপেক্ষা কম,জৈব পদার্থ থাকে মাঝারী মানে l (ii)ক্ষারকীয় প্রকৃতির এই মাটিতে জলসেচের সাহায্যে গম,ভুট্টা প্রভৃতি চাষ হয় l  


ইবুক নাম :- ভৌগোলিক সালানুক্রম

উপাদান :- 2400 + ভৌগোলিক সালের সংকলন 

কাজে লাগবে :- যেকোনো স্তরের ভূগোল শিক্ষার্থীদের 

প্রকাশক :- মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া 

ভৌগোলিক সালানুক্রম ইবুকটি সংগ্রহের জন্য কভার পেজ টি স্পর্শ করুনঃ

⇓⇓



 

⏹ আন্তঃ আঞ্চলিক মৃত্তিকা (Intro Zonal Soil):- যেসমস্ত মাটির উত্পত্তির ক্ষেত্রে জলবায়ু, স্বভাবিক উদ্ভিদ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলির চেয়ে স্থানীয় ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট,মূল শিলা, স্থানীয় পরিবেশ প্রভৃতির প্রভাব অধিক তাদের আন্তঃ আঞ্চলিক মৃত্তিকা বলে l এই মাটি তিনটি উপ বর্গ এবং 13 টি শাখায় বিভক্ত (1918)l এগুলি হল –

    1. Saline-Alkali Soil :- এই ধরনের মাটি তিন প্রকারের,যথা –
  1. Solonchak or Saline Soil :- স্বল্প আর্দ্র-শুষ্ক ও উষ্ণ অঞ্চলে এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের লোনা মাটিকে সোলোনচাক মাটি বলে l এই মাটিতে NaCl, Na, So4,প্রভৃতি দ্রবীভূত লবণের আধিক্য লক্ষ্য করা যায় l পলল সমভূমির অনেক অংশে মাটির নীচে লবণ সঞ্চিত হয়ে এবং অনেক সময় কৌশিক প্রক্রিয়ায় লবণ মাটির পৃষ্ঠ স্তরে উঠে এসে সঞ্চিত হয়ে এই মৃত্তিকা গঠিত হয় l
  2. Solonetz or Alkali Soil :- যেসব মাটির কণায় আকর্ষিত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশী থাকে (15%) এবং PH মাত্রা 8.5 এর বেশী তাদের সোলোনজ মাটি বলাহয় l এই মাটির আয়ন গুলি হল ক্লোরাইড, সালফেট, বাই কার্বনেট এবং স্বল্প পরিমাণে কার্বনেট ইত্যাদি l সোডিয়ামমের আধিক্যর জন্য এই মাটির কাদা কণা ও জৈব পদার্থ বিক্ষিপ্তভাবে থাকে এবং মাটিতে জল ও বায়ু চলাচল বিঘ্নিত হয় l
  3. Soloth Soil :- স্বল্প শুষ্ক থেকে স্বল্প আর্দ্র এবং উষ্ণ ও শীত প্রধান অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় l গুল্ম জাতীয় তৃণ এবং মাঝেমধ্যে দু’একটি বড় গাছ এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ l
    1. Hydromorphic Soil :- এর ভাগ গুলি হল –
  4. Humic Gley Soil :- শীত প্রধান ও উষ্ণ অঞ্চলের আর্দ্র থেকে সল্প আর্দ্র আবহাওয়ার মাটি l জলজ গুল্ম ও জলাভূমির বন এই মাটির স্বভাবিক উদ্ভিদ l
  5. Alpine Meadow Soil :- শীত প্রধান নাতিশীতোষ্ণ থেকে বরফ আবৃত প্রচন্ড ঠান্ডা অঞ্চলের স্যাঁতস্যাঁতে অংশের মাটি l বড় বড় গাছ এখানকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ l
  6. Bog Soil :- শীত প্রধান ক্রান্তীয় আর্দ্র অঞ্চলের যেসব স্থানে উদ্ভিদ সহ মাটি বছরের অধিকাংশ সময় জলের নীচে থাকে সেখানে জৈব পদার্থ সংযোজন ও ছত্রাক পঁচে যে গাঢ় বাদামী মাটি সৃষ্টি হয় তাকে জলাভূমির বা বিলের মাটি বলে l
  7. Half Bog Soil :- শীত প্রধান ক্রান্তীয় আর্দ্র অঞ্চলের যেসব স্থানে উদ্ভিদ সহ মাটি বছরের অধিকাংশ সময় স্থির আবদ্ধ জলের নীচে থাকে সেখানে এই মাটি গঠিত হয় l
  8. Low Humic Gley Soil :-
  9. Planosol Soil :-
  10. Ground Water Podzol :-
  11. Ground Water Laterite Soil :-
    1. Calcimorphic Soil :- এই চুন জাতীয় প্রধান মাটি গুলি হল –
  12. Brown Forest Soil :- শীত প্রধান থেকে সল্প নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের পর্ণমোচি বনের মাটি l
  13. Rendgina Soil :- প্রধানতঃ উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে আদি শিলার ওপর গড়ে ওঠা চুন জাতীয় মাটি l এই মাটির গভীরতা কম এবং এর রং ধূসর বাদামী থেকে কালো l গাছপালা ও তৃণ এখানকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ l

 

⏹ অনাঞ্চলিক মৃত্তিকা (Azonal Soil):- নির্দিষ্ট স্তর বিন্যাস এবং পরিলেখ বৈশিষ্ট হীন এবং বিভিণ্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয় প্রবণ নবীন মাটিকে অনাঞ্চলিক মাটি বলে l এই মাটি খাড়া পার্বত্য ঢালে অথবা নবীন পলি সঞ্চয় ক্ষেত্রে গঠিত হয় l 1918 সালের মৃত্তিকা অন্তর্ভুক্ত পদ্ধতি অনুসারে ইহা তিন প্রকারের,যথা –

    1. Lithosob Soil :- সব রকম জলবায়ু অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায় l কঠিন শিলা স্বল্প পরিমাণে ক্ষয়িভূত হয়ে এই মাটি গঠিত হয় l

II . Regosol Soil :- সাগর পাড়ের বেলাভূমির লোযেস এবং খাড়া পাহাড়ের ঢালের ওপর হিমবাহের বয়ে নিয়ে আসা বালি প্রভৃতি এই মাটির অন্তর্গত l বয়সের দিক থেকে এই মাটি একেবারে নবীন l নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের শুষ্ক অঞ্চলে এর প্রধান্য অধিক l

III . Alluvial Soil :- নদীর স্রোতের সাথে ভেসে আসা পলি, বালি ও কাদার সমন্বয়ে এই মাটি গড়ে ওঠে l পৃথিবীর সব দেশেই নদী অববাহিকায় এই মাটি গড়ে ওঠে l যথেষ্ট গভীর স্তর বিশিষ্ট এই মাটি খুব উর্বর হওয়ায় এর ওপর প্রগাঢ় ভাবে কৃষিকাজ করা যায় l

  • ——::——

 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!