Teaching Method of Geography ॥ ভূগোল শিক্ষণ পদ্ধতি

ভূগোল শিক্ষণ পদ্ধতি (Teaching Method of Geography)

♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦

পরবর্তী SLST তে নবম থেকে দ্বাদশ স্তরের শিক্ষকতার পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক হচ্ছে TET, এক্ষেত্রে ভাবি ভূগোল শিক্ষক/শিক্ষিকার জন্য প্রথম স্কুল সাবজেক্ট হিসাবে ভূগোলের PEDAGOGY একান্তই প্রয়োজনীয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আজকের এই পোস্ট 

 

ভূগোল শিক্ষণ পদ্ধতি (Teaching Method of Geography)

1) শিক্ষণ পদ্ধতি বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা আকর্ষণীয় করতে এবং সহজেই হৃদয়ঙ্গম করানোর জন্য পাঠক্রমের উপাদানগুলিকে বেছে নিয়ে সুসজ্জিতভাবে উপস্থাপনের জন্য শিক্ষকদের ব্যবহৃত নীতি ও পদ্ধতিগুলিকে শিক্ষণ পদ্ধতি বলা হয় । অন্যভাবে বলা যায় শিক্ষণীয় বিষয়কে সহজ ও যথার্থভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপনের জন্য শিক্ষাকার্যের সঙ্গে স্থান-কাল-পাত্রের সামঞ্জস্যবিধান করে কোন পদ্ধতির প্রয়োগই হল শিক্ষণ পদ্ধতি । কোন একটি পদ্ধতির উপযোগীতা নির্ভর করে কে, কীভাবে, কাদের উপর, কী উদ্দেশ্যে সেই পদ্ধতির প্রয়োগ করবে তার উপর ।

2) ভূগোল শিক্ষায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ পদ্ধতিগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ পদ্ধতিগুলি হলঃ i) Observation Method, ii) Excursion Method, iii) Laboratory Method, iv) Project Method, v) Regional Method, vi) Soeratic Method, vii) Inductive Method, viii) Deductive Method, ix) Political Method, x) Human Method, xi) Dalton Plan or Dalton Method, xii) Journey Method, xiii) Text-book Method, xiv) Descriptive Method, xv) Lecture Method, xvi) Story-Telling Method, xvii) Comparative Method ইত্যাদি ।

3) ভূগোল শিক্ষণ পদ্ধতি হিসাবে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি (Observation Method) কি ?
উঃ যেকোনো বিষয়ে আদর্শ জ্ঞানলাভের উপায় হল তথ্য ও ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করা । ভৌগোলিক জ্ঞানের বিকাশের জন্য শিক্ষার্থী নিজে উপস্থিত থেকে যখন শিক্ষকের সহায়তায় কোন বিষয়কে অবলোকন করে সেই বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তখন তাকে ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষণ বলে । শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক কৌতুহলতার চরিত্রকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক এভাবে কার্যকরী পাঠদানে তাদের উদ্বুদ্ধ করে থাকেন ।

4) ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় ।

5) ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলি হলঃ i) মানচিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভৌগোলিক বিভিন্ন উপাদান যথাঃ প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বিষয়ের বণ্টন; ভৌগোলিক চিহ্ন, সঙ্কেত ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা গঠন এবং মানচিত্র পাঠের দক্ষতা গঠন । iii) মডেল, চার্ট, চিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল ভৌগোলিক তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন । iii) আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র দ্বারা আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান আহরণে সাহায্য করা । iv) ক্ষেত্র সমীক্ষার বিভন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্ক সঠিক ও নির্দিষ্ট জ্ঞান প্রদান করা । v) বুলেটিন বোর্ডের মাধ্যমে কোন ঘটনার প্রয়োজনীয় চিত্র প্রদর্শন করে ঘটনার তথ্য সরবরাহ করা । vi) ফিল্ম বা চলচিত্রের মাধ্যমে কোন বিষয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা প্রদান করা ইত্যাদি ।



সহজভাবে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ স্তরের TET পরিক্ষার প্রস্তুতির জন্য মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়ার MGI PRIME TET ONLINE COACHING এ যুক্ত হতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুনঃ ⇓⇓



 

6) ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানের জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলি হলঃ i) বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট পর্যবেক্ষণের জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী স্থানে গিয়ে তথ্য আহরণ করা । ii) বিদ্যালয় বা সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপনের ধরন, সাংস্কৃতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে সম্পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার সাথে তুলনামূলক আলোচনা করা । iii) বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে বা ঋতুবিভিন্নতায় মানুষের জীবনসংগ্রামের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা । iv) সৌর জগতের বিভিন্ন ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে (যেমনঃ সূর্যের আপাত গতি, চন্দ্র কলার পরিবর্তন, ঋতুভেদে আকাশে বিভিন্ন নক্ষত্রের অবস্থানের পার্থক্য ইত্যাদি) তা সমন্ধে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা v) বায়ু, জলাধার, সমুদ্র তরঙ্গ ইত্যাদির বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পর্কে ধারণা প্রদানের জন্য উপযুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সুস্পষ্ট করা ইত্যাদি ।

7) ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সুবিধাগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সুবিধাগুলি হলঃ i) পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে । ii) সক্রিয়তার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের ফলে শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানলাভ করতে সমর্থ হয় ফলে সুস্পষ্ট ধারণা জন্মায় । iii) পর্যবক্ষণের মাধ্যমে নিজস্ব অভিজ্ঞতায় বিষয়ের কার্যকরী সম্পর্ক সমন্ধে জ্ঞানলাভ করায় তা দীর্ঘস্থায়ী হয় ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক উন্নয়ন ঘটে । iv) পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সহজেই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট, দুটি ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্য, ভৌগোলিক ঘটনাবলীর প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গঠিত হয় ফলে শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে তাত্বিক বিষয়গুলো মনে রাখা সহজ হয়ে ওঠে ইত্যাদি ।

8) ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির অসুবিধাগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির অসুবিধাগুলি হলঃ i) শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ভূগোলের সমস্ত বিষয় অবগত হওয়া সম্ভব নয় । ii) সময়ের অভাবে বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষে সমস্ত পাঠ্যবিষয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শেখা সম্ভব নয় । iii) এই পদ্ধতিতে পাঠদান ব্যয় স্বাপেক্ষ যা শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করতে সক্ষম নাও হতে পারে । iv) সময় স্বাপেক্ষ এই ব্যবস্থায় স্বল্প সময়ে পরিবেশের দীর্ঘকালীন কার্য-কারণ সম্পর্ক সমন্ধে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা না হওয়ায় স্বাভাবিক । v) ভূগোলের অন্যান্য দিক যথাঃ তত্বগত পাঠ, ব্যবহারিক দিকের পাঠ, পরিকল্পনা সম্পর্কিত পাঠ এর জন্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি সর্বদা সদর্থক হয় না । vi) শিক্ষক সঠিক পরিকল্পনা করতে অসমর্থ হলে অল্প বয়স্ক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃহত্তর পরিবেশের সামাজিক, প্রাকৃতিক বা অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত কার্যকারী সম্পর্ক সমন্ধে সঠিক উপলব্ধি সম্ভব নাও হতে পারে ।

9) ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত উপকরণগুলি কিকি ?
উঃ ভূগোল শিক্ষাদানে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত উপকরণগুলি কে দুই ভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে, যথাঃ i) শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরে পর্যবেক্ষণ উপযোগী উপকরণ :- এগুলি হল – গ্লোব, চার্ট, মডেল, গ্রাফ ইত্যাদি এবং ii) শ্রেণিকক্ষের বাইরে পর্যবেক্ষণ উপযোগী উপকরণ :- এগুলি হল – দূরবীন, টেলিস্কোপ, বিভন্ন ভৌগোলিক যন্ত্র, Field Trips, Excursions ইত্যাদি ।

 



মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়ার MGI PRIME TET ONLINE COACHING এ আলোচনার বিষয়বস্তু নিচের ছবিতে ⇓⇓

MGI PRIME TET ONLINE COACHING
#MGI PRIME TET ONLINE COACHING
#মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া এবার আপনার TET এর প্রস্তুতিতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত । PRIMARY থেকে SLST যেকোনো স্তরের TET এর প্রস্তুতির জন্য আরম্ভ হয়েছে MGI PRIME TET ONLINE COACHING


10) পর্যবেক্ষণ কৌশল (Observation Techniques) কয় প্রকারের হয়ে থাকে ?
উঃ পর্যবেক্ষণ কৌশল কে মূলতঃ দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ i) প্রতক্ষ্য পর্যবেক্ষন (Direct observation) :- যে পর্যবেক্ষণ কালে পর্যবেক্ষণকারী সশরীরে উপস্থিত থেকে কোন ক্ষেত্র থেকে তথ্য আহরণ করে তাকে প্রতক্ষ্য পর্যবেক্ষন বলে । পর্যবেক্ষণকারীর সক্রিয় ভূমিকার উপর নির্ভর করে প্রতক্ষ্য পর্যবেক্ষণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ a) সক্রিয় প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও b) নিষ্ক্রিয় প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ । এবং ii) পরোক্ষ পর্যবেক্ষণ (Indirect observation) :- কোন ভৌগোলিক ক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকে দূরবর্তী মাধ্যমে অন্যের পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করে বা নথি আকারে অতীতের ঘটনাগুলির রেকর্ডিং-মেন্টেশন, ভিডিও ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য আহরণ প্রক্রিয়াকে অপ্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বলে ।

ব্যস্ততার মাঝেও সমগ্র পোস্ট টি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ॥ 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!