The Rise of Geography as a Matter of Education ॥ শিক্ষার বিষয় হিসাবে ভূগোলের উত্থান

The Rise of Geography as a Matter of Education

শিক্ষার বিষয় হিসাবে ভূগোলের উত্থান 

∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴ ∴


 

1) Geography শব্দের আক্ষরিক অর্থ কি ?
উঃ ইংরাজী “Geograph” শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক এরাটোস্থেনিস (Eratosthenes; 276–194 BC) । যার ব্যুতপত্তি গত অর্থ ‘Geo’ = ‘Earth’ বা ‘পৃথিবী’ এবং ‘Graphy’ = ‘Description’ অর্থাৎ ‘বর্ণনা’ বা লেখা ।

2) ‘Geography’ ও ‘ভূগোল’ কি সমার্থক ?
উঃ এরাটস্থেনিস “Geograph” বলতে কঠিন,তরল ও বায়বীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত ‘পৃথিবীর বর্ণনা’ কে বুঝিয়ে ছিলেন । “Geograph”এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসাবে ‘ভূগোল’ শব্দের ব্যবহার, যার ব্যুতপত্তি গত অর্থ হল ‘ভূ’ = ‘পৃথিবী’ বা ‘মাটি এবং ‘গোল’ = ‘বৃত্তাকার’ অর্থাৎ ‘পৃথিবী বৃত্তাকার’ বা ‘বৃত্তাকার পৃথিবী’ যা পৃথিবীর আকার বা আকৃতি কে বোঝায় । অর্থাৎ “Geography” শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ সম্পূর্ণ পৃথক । কিন্তু অতি প্রাচীনকাল থেকে ভূগোল’ শব্দের ব্যবহার হয়ে আসায় এবং বিকল্প বাংলা না প্রচলন হওয়ায় এরুপ বিভ্রান্তিকে মেনেই “Geography” = “ভূগোল” বলে পাঠ করতে হবে । “ নামে কী আসে যায় ……………….। ”

3) ভূগোলকে ‘বিজ্ঞানের জননী’ বা Mother of a। । Science বলা হয় কেন ?
উঃ স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী মানুষ ও পরিবেশের অন্তঃসম্পর্কের উপজীব্য হল ভূগোল, যা পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে চলেছে । এই পর্যবেক্ষণ নীতির জন্যই ভূগোল ভাষা ও সাহিত্য, জীববিদ্যা, জড়বিদ্যা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, গণিত, খগোলবিদ্যা, দর্শন প্রভৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত । অর্থাৎ উক্ত বিষয়গুলোর জ্ঞান অর্জনে ভূগোলের জ্ঞান অপরিহার্য তাই ভূগোলকে ‘বিজ্ঞানের জননী’ বা ‘Mother of a। । Science’ বলা হয় ।

4) ভূগোলের বিকাশ পর্যায় কে কয় ভাগে ভাগ করা হয় ?
ভূগোলের বিকাশ পর্যায় কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ i) The age of discovery (1400-1800), ii) The period between 1800 and 1950 এবং iii) The period after 1950.

5) কোন সময়কে তাত্বিক ভূগোলের প্রারম্ভিক কাল ধরা হয় ?
উঃ ষোড়শ ও সপ্তদশ শতককে তাত্বিক ভূগোলের প্রারম্ভিক কাল ধরা হয় । এই সময়কালে ফ্লেমিস ভূগোলবেত্তা Gerardus Mercator এর “Wor। d Map” (1538) এবং ডাচ ভূগোলবিদ Bernhardus Varenius এর “Geographia Genera। is” (1650) তাত্বিক ভূগোলের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

6) কোন সময়কালকে ভূগোলের ‘আবিষ্কারের কাল’ (Age of Discovery/Age of Exp। oration) বলা হয় ?
উঃ 15th এবং 17th শতকের মধ্যবর্তী সময়কালকে পশ্চিমি দুনিয়ার প্রেক্ষিতে ভূগোলের ‘আবিষ্কারের কাল’ (Age of Discovery) বলা হয় ।

7) কোন সময় কোথায় নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভূগোলের অধ্যয়ন আরম্ভ হয় ?
উঃ Tha। es of Mi। etus, Herodotus, Eratosthenes, Aristot। e, Strabo এবং Pto। emy এর মাধ্যমে প্রাচীন গ্রিসে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভূগোলের অধ্যয়ন আরম্ভ হয় ।

8) কোন গ্রন্থে মানব ও স্থানের বর্ণনার ভিত্তিতে আমরা প্রথম ভৌগোলিক কার্যাবলীর রসদ পাই ?
Homer এর লেখা “I। iad” ও “Odyssey” (9th century B. C.) থেকে মানব ও স্থানের বর্ণনার ভিত্তিতে আমরা প্রথম ভৌগোলিক কার্যাবলীর রসদ পাই ।

9) কোন সময় আধুনিক ভূগোলের যাত্রাপথ আরম্ভ হয় ?
উঃ A। exander von Humbo। dt এবং Kar। Ritter এর কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক ভূগোলের যাত্রাপথ আরম্ভ হয় ।

10) আধুনিক শাস্ত্রীয় ভূগোলের সূচনা হয় কোথায় ?
উঃ জার্মান ভৌগোলিক Johann August Zeune (1778-1853) এর নেতৃত্বে University of Ber। in এ ঊনবিংশ শতকের প্রথম দশকে আধুনিক শাস্ত্রীয় ভূগোলের সূচনা হয় । 1808 সালে তিঁনি পাঠ্যবই হিসাবে তাঁর “Gea” নামক বই প্রকাশ করেন এবং 1809 Geographica। Association নামক ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন ।

11) কোন সময়কে আধুনিক ভূগোল উৎতরণের Turning Point বলা হয় ?
উঃ 1769 সালে জেমস কুক এর প্রথম প্রশান্ত মহাসাগর যাত্রার সময়কে আধুনিক ভূগোল উৎতরণের Turning Point বলা হয় । স্টুডার্ট এর মতে কুকের এই যাত্রা ইউরোপীয় অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়ান ল্যান্ডমাস এবং তার অনন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল বৈচিত্র সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করে ।

12) ভূগোল বিষয়কে উচ্চতর ক্ষেত্রে স্থাপনের জন্য গ্রীক দার্শনিকগণ কোন কোন বিষয়ের উপর অধিক জোর দেন ?
উঃ ভূগোল বিষয়কে উচ্চতর ক্ষেত্রে স্থাপনের জন্য গ্রীক দার্শনিকগণ মূলতঃ তিনটি বিষয়ের উপর অধিক জোর দেন, এগুলি হলঃ i) বিভিন্ন অভিযান থেকে সংগৃহীত তথ্যের উপর । ii) তথ্য দ্বারা উপস্থাপিত তালিকা বা মানচিত্রের উপর এবং iii) তথ্যের বিশ্লেষণের উপর ।


13) ভূগোলে অবরোহী পদ্ধতির প্রবক্তা কে ?
উঃ ইউরোপের প্রথম বিদ্যালয় ‘অ্যাকাডেমি’ এর প্রতিষ্ঠাতা প্লেটো ভূগোলে অবরোহী পদ্ধতির প্রবক্তা ।

14) ভূগোলে কোন সময়কালকে অন্ধকার যুগ বলা হয় ?
উঃ মধ্য যুগের প্রথমার্ধ, 200 থেকে 1000 খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল কে ভূগোলে অন্ধকার যুগ বলা হয় । কারণ এই সময় কোনরকম নতুন ভৌগোলিক আবিষ্কারের কাজ হয়নি ।

15) আধুনিক যুগে ভূগোলের বিকাশে কোন দেশের ভৌগলিকদের অবদান অধিক ?
উঃ আধুনিক যুগে ভূগোলের বিকাশে বিভিন্ন দেশের ভৌগলিকদের মধ্যে জার্মান ভৌগলিকদের অবদান অধিক ।

16) আধুনিক যুগে ভূগোলের বিকাশ পর্যায়কে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ?
উঃ আধুনিক যুগে ভূগোলের বিকাশ পর্যায়কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ i) ধ্রুপদী-পূর্ববর্তী পর্যায়, ii) ধ্রুপদী পর্যায় এবং iii) ধ্রুপদী-পরবর্তী পর্যায় ।

17) ভূগোলের ধারণায় স্থানের এবং ইতিহাসে সময়ের অবস্থানকে চিহ্নিত করে ভূগোল গবেষণার আরোহী ও অবরোহী পদ্ধতির দার্শনিক দিকটি কে স্পষ্ট করেন ?
উঃ ইমানুয়েল কান্ট ।

18) ভূগোলে সাধারণীকরণ এবং বিশেষীকরণ ধারণার উদ্ভাবক কে ?
উঃ ভূগোলে সাধারণীকরণ এবং বিশেষীকরণ ধারণার উদ্ভাবক হলেনঃ জার্মান ভূগোলবিদ ভ্যারেনিয়াস ।

19) প্রাচীন ভারতে কোন সময় ভূগোল বিষয়ের অনুসন্ধান পাওয়া যায় ?
উঃ প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্র “ভগবৎ পুরাণে” ভূগোল শব্দের অনুসন্ধান পাওয়া যায়, অষ্টম শতকে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ‘Bhugol’ বা ‘Bhoogol’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে গৃহীত হয় ।

20) ভারতীয় ভূগোলের বিকাশ পর্যায়কে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ?
উঃ ভারতীয় ভূগোলের বিকাশ পর্যায়কে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে, যথাঃ i) প্রাচীন পর্যায় (Ancient Stage, ii) মধ্যবর্তী পর্যায় (Middle Age), iii) ঔপনিবেশিক পর্যায় (Colonial Period) এবং iv) স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায় (Post Independent Period) ইত্যাদি ।

21) স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায় (Post Independent Period) এর ভারতীয় ভৌগোলিক অগ্রগতি কে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় ?
উঃ “EVOLUTION OF MODERN GEOGRAPHICAL THINKING AND DISCIPLINARY TRENDS IN INDIA” নামক আর্টিকেলে (2013) Dr. Lalita Rana স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায় এর ভারতীয় ভৌগোলিক অগ্রগতি কে চারটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন, যথাঃ i) The Formative Stage: Pre-1950s; ii) The Informative Stage: The 1950s; iii) The Confirmative Stage: The 1960s; এবং iv) The Reformative Stage: Since 1971.

22) ভারতে ভূগোলের ভিত্তিপ্রস্তর কে তৈরি করেন ?
উঃ বর্তমান ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় মূল স্রোতের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য বিষয় হল ‘ভূগোল’ । কিন্তু ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ভূগোল বিষয়ের গুরুত্ব বিংশ শতকের প্রারম্ভে ছিল প্রায় ‘না’ বরাবর । তিরিশের দশকে জেড. আর. খাঁ দ্বারা আলীগড়ে ভূগোলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ।

23) কোন সময় স্নাতকোত্তর স্তরে ভূগোলের পঠন পাঠন আরম্ভ হয় ?
উঃ 1941 সালে এস.পি. চ্যাটার্জী দ্বারা কলকাতায় ভূগোলের অধ্যায়ন আরম্ভ হয় । এরপর 1946 এ বারাণসী, 1948 এ পাঞ্জাব, এলাহাবাদ ও মাদ্রাস এবং 1949 এ পাটনাতে স্নাতক স্তরে ভূগোলের অধ্যায়ন আরম্ভ হলে ভূগোলের গুরুত্ব ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

24) ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ভূগোলের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা কাদের ছিল ?
উঃ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ভূগোলের বিকাশের পিছনে এস.পি. চ্যাটার্জী, এস.এল. ছিব্বর, আর.এন. দুবে, এস.এল. দুগ্গল, সুব্রামনিয়াম এঁর অবদান অনবদ্য রয়েছে । তিরিশের দশকেই আলীগড় মুসলিম সোসাইটি (1935) Geographica। Society of India (1933) এর মতো প্রতিষ্টানগুলি গড়ে ওঠে ।

25) ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় কোন সময় ভূগোলের গুরুত্ব বিশ্লেষণাত্মক রূপ নেয় ?
উঃ 1951-70 এই দুই দশকে ভূগোলের গুরুত্ব আরো বিশ্লেষণাত্মক হয়ে ওঠে । 1951 পর্যন্ত ভারতে মাত্র 15 টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তরে ভূগোল অধ্যায়ন হত যা 1970 এ দ্বিগুণ হয়ে 30 এ পৌঁছে ।

 

সমগ্র অংশটি ধৈর্যের সাথে পাঠের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ॥ পরবর্তী অংশটি পাঠের জন্য আমাদের সঙ্গে থাকুন ॥ 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!