উচ্চ প্রাথমিক ইন্টারভিউ ll Upper Primary Interview Special Part-2

প্রসঙ্গ :- শিক্ষক হিসাবে আপনি
(আজ প্রথম পর্ব)

আলোচনায় :- গোপাল মণ্ডল (সহকারী সম্পাদক, মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া)

******************************

(1) আপনি কেন শিক্ষকতার পেশায় আসতে চাইছেন ?
উঃ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আদর্শ শিক্ষা সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ন উপাদান I অর্থাৎ শিক্ষা দান সার্বিকভাবে এক মহৎ কর্ম I তাই বলাই যায় একজন শিক্ষক আদর্শ সমাজ গঠনের কাণ্ডারী I আর আমি নিজেকে সমাজ গঠনের এই কর্মযজ্ঞে নিহিত করে নিজের সংগ্রহ করা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে অংশগ্রহণ করতে চাই, তাই স্যার আমি শিক্ষকতার পেশায় বিশেষ আগ্রহী I

পড়ুন 👉 উচ্চ প্রাথমিক ইন্টারভিউ সম্পর্কিত তথ্য

(2) “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” আপনি কিভাবে ব্যখ্যা করবেন ?
উঃ স্যার, শিক্ষা বলতে বোঝায় সেই গুণাবলীকে যার দ্বারা কোন ব্যক্তি দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও অনুশাসনের মধ্য দিয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত, বাঞ্চিত এবং ইতিবাচক পরির্বতন ঘটাতে সক্ষম হয় I আর এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয় যা সমাজের তিনটি মূল স্তম্ভ I তাই বলাই যায় “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” এবং যে জাতি যতো শিক্ষিত সে জাতি ততো উন্নত I

(3) বেসরকারি ক্ষেত্রও আপনি শিক্ষকতা করে শিক্ষা প্রসার ঘটাতে পারতেন, তাহলে কেনো আপনি সরকারি ক্ষেত্রে শিক্ষকতা করতে চাইছেন ?
উঃ স্যার, আপনার সাথে আমি একমত I কিন্তু আমরা সকলেই জানি আমাদের দেশে ব্যপক আর্থিক বৈষম্য ও অসঙ্গতি রয়েছে I তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সমাজের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের সহজ ক্ষেত্র হলো সরকারি বিদ্যালয় এবং আমাদের সংবিধান বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সেই সুযোগ প্রদান করে I তাই আমি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বিশেষ আগ্রহী I

(4) আগামি পাঁচ বছরে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান ?
উঃ একজন শিক্ষক / শিক্ষিকা হিসাবে আমার প্রধান কাজ হলো নিজের অভিজ্ঞতার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটিয়ে শুকৌশলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটানো I আমি সেই পথে চলে আগামি দিনে আমার বিদ্যালয়কে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে সেই প্রতিষ্ঠানের একজন যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে নিজেকে দেখতে চাই স্যার I

এবার কি নবম থেকে দ্বাদশ স্তরে টেট ? বিশদে জানুন

(5) আপনাকে দূরবর্তী স্থানে পোস্টিং দিলে আপনি কি সেখানে শিক্ষকতা করবেন ?
উঃ স্যার, আমার মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষকতা করা, তাই দূরত্ব আমার কাজে কোন বাধা নয় I আমাকে যেখানেই পোস্টিং দিক না কেনো আমি অবিচল থেকে আমার দ্বায়িত্ব সম্পূর্ণ করবো I আমার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে সুনিপুণভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা সঞ্চার ঘটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই I আর বর্তমান সময়ে দুরুত্ব খুব একটা বড়ো বিষয় নয় কারন ইন্টারনেট আমাদের দূরত্বকে অনেক সঙ্কুচিত করেদিয়েছে I

(6) প্রত্যন্ত গ্রামে পোস্টিং পেলে কি করবেন ?
উঃ স্যার আমিও এটাই চাইছি I কারন শহর বা শহরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসার সামুহিকভাবে ঘটলেও প্রচুর প্রত্যন্ত গ্রামে সে সুযোগ এখনো খুব কম, আবার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যালয়ছুট এর সংখ্যাও অধিক I তাই একজন শিক্ষক / শিক্ষিকা হিসাবে আমি প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষকতার সুযোগ পেলে নিজেকে আরো নিগূঢ় ভাবে শিক্ষার প্রসারে নিয়োজিত করতে পারব বলে মনে করি I

(7) আপনি তো আমাদের অধিকাংশ প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারলেন না, তাহলে শিক্ষকতা কিভাবে করবেন ?
উঃ সত্যিই স্যার আপনাদের অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারলাম না কিন্তু তাতে শিক্ষকতার কাজে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না I এই মুহূর্তে আপনারা যেসমস্ত প্রশ্ন করলেন সেগুলোর কিছু উত্তর আমি জানিনা বা এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না I কিন্তু শিক্ষকতা করার সময় আমাকে পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ দান করতে হবে এবং তার জন্য আমি পাঠ দানের পূর্বে মানসিক ও বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতির সময়-সুযোগ পাব এবং নিজেকে পাঠ দানের উপযোগী করে শ্রেণীকক্ষে সেই বিষয় আলোচনা করবো I এতে করে আমার মনে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরো নিগূঢ় হয়ে উঠবে I

অবশেষে SSC/SLST এর সুখবর

(8) ধরুন আপনার ক্লাস চলাকালিন আপনি লক্ষ্য করলেন কোন শিক্ষার্থী অন্যমনস্ক হয়ে রয়েছে, এমত অবস্থায় আপনি কি করবেন ?
উঃ স্যার, সেই সময় যেহেতু একজন কর্তব্যরত শিক্ষক হিসাবে আমি শ্রেণীকক্ষে থাকবো তাই আমার দ্বায়িত্ব হবে সকল শিক্ষার্থীকে পাঠ্য বিষয়ে মনযোগী করে তোলা I তা সত্বেও যদি এরকম কিছু হয় তাহলে ঐ শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে সে কেনো অমনোযোগী তা জিজ্ঞাসা করবো, যদি কোন ব্যক্তিগত করণে সে অমনোযোগী হয়ে থাকে তাহলে তা সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টা করবো আর যদি আমার পাঠ দানের কোন ত্রুটি থাকে তাহলে তা পরিমার্জন করে অন্য উপায়ে পাঠ্য বিষয় উপস্থাপনের উপর গুরুত্ব দেবো I

(9) আপনি কি মনে করেন শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত কারণে অমনোযোগী হতে পারে ?
উঃ হ্যাঁ স্যার, আমি তা মনে করি I স্যার আমরা সকলেই সমাজবদ্ধ I বিভিন্ন পরিবারের একেক রকম স্বতন্ত্র নিয়মকানুন রয়েছে I আর এই সমস্ত নিয়মকানুন শিশুদের আয়ত্ত করানোর জন্য অনেক সময় শিশু মনে বিরূপ প্রভাব পড়েই যায় I তাছাড়া শিশুদের উপর একই সাথে বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর কাজ, শেখার জন্য মাতা-পিতা বা অন্যান্য ব্যক্তির চাপ থেকেই থাকে I তাই তাদের ব্যক্তিগত কারণে অমনোযোগী হয়ে ওঠা স্বাভাবিক I অনেক সময় নিকটস্থানীয় আত্মীয়ের বিরূপ আচরণও শিশু মন কে অমনোযোগী করে তোলে I

(10) শিক্ষক হিসাবে আপনি আপনার অবসর সময় কিভাবে অতিবাহিত করবেন ?
উঃ স্যার একজন শিক্ষকের যেহুত প্রধান কাজ হলো সহজ সরল ভাবে বিষয়কে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের সেই বিষয়ে আকৃষ্ট করা, তাই সবসময় শিক্ষককে বাস্তবকেন্দ্রিক করে আলোচনা করতে হয় I সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় জানার একটি অনবদ্য উপায় বিভিন্ন বই পড়া I তাই স্যার, আমি অবশ্যই পড়াশোনার মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রেখে আমার অবসর সময় অতিবাহিত করতে আগ্রহী I


“শিশু শিক্ষার অনুষঙ্গ” ইবুক

সংগ্রহ করুন “শিশু শিক্ষার অনুষঙ্গ” ইবুক টি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!